ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে চলা ‘অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ’ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে ‘স্বচ্ছতার অভাব প্রতীয়মান’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা।
শুক্রবার বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘নির্বাচন সংক্রান্ত তাদের প্রস্তাবিত আবেদনপত্র এবং ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীদের উত্থাপিত ১১টি অভিযোগকে প্রশাসন ‘ভালোভাবে বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যতীত’ নির্বাচন কমিশন বিবৃতি প্রকাশ করেছে।’
‘প্রার্থীরা তাদের আবেদনপত্রে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কয়েকটি বুথের সম্পূর্ণ ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ফুটেজ পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। তবে প্রশাসন এসব আবেদনকে “অনির্দিষ্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছে,’ অভিযোগ ছাত্রদলের।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে শিক্ষার্থীগণ কর্তৃক উত্থাপিত সন্দেহের বিষয়টি নির্বাচনের দিনের সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ছাড়া নিরসন করা সম্ভব নয়।’
ভোটার তালিকা ও পোলিং প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল। তাদের যুক্তি, ‘কোনো নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে ভোটার তালিকা থাকা এবং পোলিং এজেন্টদের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলাকালীন উপস্থিতি যাচাই করা সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ডাকসু নির্বাচনে কোনো পোলিং এজেন্টকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
‘কর্তৃপক্ষ নীলক্ষেতে ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ অস্বীকার করলেও সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নীলক্ষেতেই ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে,’ অভিযোগে বলা হয়।
বিবৃতিতে ছাত্রদলের আরো অভিযোগ, “যথাসময়ে ও যথানিয়মে” জমা দেওয়া ওই আবেদন ও অভিযোগগুলোকে “সারবত্তাহীন ও অনির্দিষ্ট” হিসেবে উল্লেখ করে উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে “স্বচ্ছতার অভাব” এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গতানুগতিক অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস আরও বাড়ছে।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদল দাবি করেছে, ‘ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এ সংঘটিত “অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাসম্মতভাবে যাচাই-বাছাই করে তদন্ত” শেষ করা হোক।’
তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সত্যিকার অর্থেই যোগ্যতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় “স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে তদন্ত” সম্পন্ন করার পাশাপাশি সেগুলোর “সুনির্দিষ্ট ও যুক্তিযুক্ত সত্য জবাব” অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ ধরনের বিষয়ে প্রশাসন যদি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রকাশ্য তদন্ত চালায়, তা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহ কেটে সাংগঠনিক স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও অভিযোগ-অসন্তোষ ও বিবাদ চলতেই থাকবে।’


