খিলগাঁওয়ের স্কুলছাত্র জিসান হত্যা মামলার এক আসামি পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছে। শরিফুল ইসলাম নামের ঐ আসামির আদালত এলাকা থেকে দৌড়ে পালানোর দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসি ক্যামেরায়। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও পলাতক আসামিকে ধরতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আসামি পলায়নের এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাজতখানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় আসামি শরিফুল কৌশলে হ্যান্ডকাফ খুলে পালিয়ে যান। রাজধানীর খিলগাঁও থানার একটি অপহরণ ও হত্যা হামলার আসামি তিনি।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ এসআই রিপন মোল্লা বলেন, ‘আসামিকে আদালত থেকে হাজতখানায় নিয়ে আসার পথে কনস্টেবল শহিদুল্লাহকে আঘাত করে সে পালিয়ে যায়।’
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এডিসি মাইন উদ্দিন বলেন, ‘আসামির হাতে হাতকড়া ছিল। সে ধাতব কিছু দিয়ে হাতকড়া লুজ করে কৌশলে খুলে ফেলে। পরে পুলিশ কনস্টেবলকে হাতে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এব্যপারে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোতোয়ালি থানাকে জানানো হয়েছে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য।’
পুলিশ জানায়, শরিফুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি স্কুলছাত্র জিসান হোসেনকে অপহরণের পর হত্যা মামলার আসামি। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলামের আদালতে এদিন মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ছিল। সেজন্য দুই আসামি শরীফুল ইসলাম এবং শাহিন মণ্ডলকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিদের হাজিরের পর এজলাসে তোলা হয়। এদিন মামলার সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের আদালতের দ্বিতীয় তলা থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এরই মাঝে নিচ তলা থেকে পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, এক পুলিশ সদস্য চার আসামিকে সঙ্গে নিয়ে হাজতখানার দিকে যাচ্ছেন। শরিফুল ইসলাম ছিলেন সবার সামনে। তাদের পেছন থেকে দড়ি ধরে হাঁটছিলেন ওই কনস্টেবল। আদালত ভবনের নিচে সিঁড়ির কাছে পৌঁছাতেই শরিফুল কৌশলে হাতকড়া খুলে দৌড় দেন।
পলায়নের এক পর্যায়ে আসামি শরিফুল পাশের একটা আদালত কক্ষে ঢুকে পড়েন। সেখানে গিয়ে গায়ের সাদা শার্ট খুলে হাতে নেন এবং একটি লাল টিশার্ট পরা অবস্থায় দৌড়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান।
আসামি শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামে। তিনি মৃত শফিক আহম্মেদ খানের ছেলে।
২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি দুপুরে খিলগাঁও থানাধীন সিপাহীবাগে এক আত্মীয়র বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয় স্কুলছাত্র জিসান হোসেন। পরদিন ভোরে জিসানের বাবা মোফাজ্জল হোসেনের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় জিসানের মুক্তির জন্য।
এ ঘটনায় মোফাজ্জল হোসেন প্রথমে খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
২৩ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে জিসানের লাশ শনাক্ত করেন বাবা। তখন জানা যায়, বাড্ডা থানা পুলিশ আফতাব নগর এলাকায় আলমগীরের মাছের খামারে পেয়েছে জিসানের মরদেহ।
জিসান হত্যার ঘটনায় র্যাব শাহিন মিয়া ও শরিফুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ১৯ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য জিসানকে অপহরণ করে আফতাব নগরে আলমগীরের মাছের খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুম করতে কোমরের সঙ্গে মাফলার দিয়ে চারটি ইট বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
জিসান হত্যা মামলার তদন্ত করে ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি খিলগাঁও থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ রাহাৎ খান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরু হয়। এ মামলায় ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


