শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় নিজের ফাঁসি দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর আদালতকক্ষে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।’
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। আদেশ ঘোষণার আগে লতিফ সিদ্দিকী আদালতের কাছে কিছু বলার অনুমতি চান। তবে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আইনজীবীরা জানান, মামলার এ পর্যায়ে আসামির বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ নেই।
পরে তাকে কাঠগড়া থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি উচ্চস্বরে বলেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।’
শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তার ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তার ভাইয়ের বয়স এখন ৮৭ বছর এবং তার নিজের বয়স ৮০ বছর।
লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসির মন্তব্য প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, মানুষ কয়দিন বাঁচে। তার ৮৭ বছর হয়ে গেছে। আমার ৮০ হয়ে গেছে। যে অপরাধ তিনি করেননি, তার দায়ে যদি ফাঁসি হয়, আমরা সাদরে গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, ‘শেষ বিচারে আল্লাহ তাকে তখন মুক্তি দেবেন। বিনা অপরাধে যদি তার ফাঁসি হয়, তাহলে তো দুনিয়ায় যে ভুল-ত্রুটি করেছেন, সেগুলো থেকে তিনি মাফ পাবেন। আমিও সেটা চাই।’
মামলার অভিযোগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই বুঝতে পারলাম না, তার বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরে গণহত্যার অভিযোগ আসল কীভাবে? তাকে এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী বলা যায় না। কারণ, তিনি তখন পাটমন্ত্রী ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় লতিফ সিদ্দিকী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়েও মন্তব্য করেন তিনি। কাদের সিদ্দিকীর ভাষ্য, লতিফ সিদ্দিকী আগে থেকেই আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছিলেন।
তিনি বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে মন্তব্য করার পর দলের ভেতরে অনেকে শেখ হাসিনার কাছে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেন। এর ফলেই তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
একই দলের শাসনামলে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার এখন তার ভাইকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে, এটিকে কীভাবে দেখেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা আইনের মাধ্যমেই লড়াই চালিয়ে যাব।’


