নারী হিসেবে ‘সহানুভূতি’ পাবেন না শেখ হাসিনা: প্রসিকিউশন

নারী হিসেবে ‘সহানুভূতি’ পাবেন না শেখ হাসিনা: প্রসিকিউশন
জুলাই অভ্যুত্থানের পর আঁকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রাফিতি | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী হিসেবে শেখ হাসিনাকে কোনও প্রিভিলেজ বা ‘সহানুভূতি’ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। জনগণের কাছে রায়ের স্বচ্ছতা তুলে ধরতে তা সোমবার সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার চ্যানেল বিটিভি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একযোগে রায় ঘোষণা প্রচার করা হবে।

এছাড়া, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা সম্প্রচার করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। বিদেশি একটি বার্তাসংস্থাও এ রায় সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি চেয়েছে।

আসামি নারী হওয়ায় রায় প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অনুকম্পা থাকবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, ‘সাধারণ আইনে জামিন প্রদানের নারী, অসুস্থ ও কিশোরদের কিছুটা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে রায়ের ক্ষেত্রে সাধারণ আইনেও তেমন কিছু নেই, এই আইনেও নেই। অর্থাৎ রায় প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি নারী হোক বা পুরুষ, তিনি কী অপরাধ করেছেন তার তীব্রতা বিবেচনা করে রায় দেওয়া হবে।’

ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবে। অন্য দুইজন হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আরও পড়ুন

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ জানান। পড়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। আদালত সুবিবেচনা করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। তবে আমরা চাই, এই অপরাধের দায়ে আসামিদের যেন সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এইচএম তামিম। ছবি: ভিডিও থেকে

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ না করায় তাদের পলাতক ধরা হয়েছে এবং আবদুল্লাহ আল-মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালে তোলা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এতে ছাত্র-জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারবিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের প্রতিহত করার নির্দেশ দেন।

এছাড়া রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানী ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad