পাঁচ দিনের পূজা, আনন্দ আর মিলনমেলার পর বিদায়ের পালা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে গিয়ে ভক্তদের চোখেমুখে যেমন ছিল বিষাদের ছাপ, তেমনি ছিল আগামী বছরের অপেক্ষা। তাদের প্রার্থনা, সব অশুভ দূর করে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আবারও মর্ত্যে ফিরে আসবেন মা দুর্গা।
বুধবার বেলা ৩টা থেকে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। একে একে প্রতিমা নিয়ে সৈকতে আসেন নগরের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপের আয়োজকেরা। দেবীকে তেল-সিঁদুর পরিয়ে, পান ও মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় জানান ভক্তরা। এ সময় পতেঙ্গা সৈকতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিমা বিসর্জন স্থল পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
পতেঙ্গা ছাড়াও নগরের অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উৎসবের শেষ দিনে এসব স্থানে ভক্ত-অনুরাগীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
দুর্গোৎসবের সমাপ্তি উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চলাচলের উপযোগী সড়ক এবং উৎসবস্থলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
মেয়র বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা সমন্বয়, সড়ক সংস্কার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
তিনি আরও বলেন, দুর্গোৎসবের সফল সমাপ্তি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা সারা বছর বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় উৎসবের বাইরেও নগরের পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জননিরাপত্তা ও নাগরিক দায়িত্ব পালনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি করপোরেশন ও নগরবাসীর মধ্যে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হলে চট্টগ্রামকে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিকে এ বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন হয়েছে ঘোটকে বা ঘোড়ায়। কৈলাসে তার ফিরে যাওয়ার বাহন নৌকা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমনকে সমাজে অস্থিরতা ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে নৌকায় গমনকে জলবৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কার পাশাপাশি শস্যবৃদ্ধি, উর্বরতা ও মনোবাসনা পূরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণভাবে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছেন। বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


