আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন আত্মপ্রকাশ করল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারী শক্তি’।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সাইবার হয়রানি এবং সামাজিক চাপের কারণে যেসব নারী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতি থেকে সরে গেছেন, তাদের পুনরায় সংগঠিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, সারাদেশের জুলাই আন্দোলনে যে সকল নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গিয়েছে, আমরা তাদেরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।’
নাহিদ জানান, জাতীয় নারী শক্তি এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে। সংগঠনটি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে এবং ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করবে।
নাহিদ ইসলাম স্বীকার করেন যে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ নারী রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী সময়ে একটা প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি শুনতে হয়েছে বিভিন্ন জায়গায় যে আসলে জুলাইয়ের নারীরা কোথায়?’
নারীদের হারিয়ে যাওয়ার পেছনে সাইবার বুলিং একটি বড় কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষত যেসব নারী রাজনৈতিকভাবে সরব হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তারা অনলাইনে ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং অনেকে রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
এনসিপির এক নারীর কর্মীর আত্মহত্যার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ‘আমাদের একজন এনসিপির ঢাকা মহানগরের ধানমন্ডি থানার একজন নারী কর্মী তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তাকে এমনভাবে সাইবার বুলি করা হয়েছিল ৩২ নম্বর একটা ঘটনা নিয়ে যে, এই ঘটনা তাকে এত বেশি বিপর্যস্ত করেছিল যে তাকে সুইসাইড করতে হয়েছিল।’
নাহিদ ইসলাম মনে করিয়ে দেন, কোটা আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন নারীরাই।
তিনি বলেন, ‘মূল ঘটনাটাই ছিল যে নারীদের উপরে বা আমাদের ছাত্রীদের উপরে যে হামলাটা ১৫ই জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হলো। নারীদেরকে টার্গেট করা হয়েছিল কারণ এই কোটা আন্দোলনের অগ্রভাগে আমাদের বোনেরা ছিল।’
নতুন সংগঠনের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন নুসরাত তাবাসসুম, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে নির্যাতিত হয়েছিলেন।
সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডা. মাহমুদা আলম।
আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকবেন মনিরা শারমিন, যিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের নির্বাচিত জিএস ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যেকোনো ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যায়, তা রোধে সরকারকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকেই সমাজে এই জিনিসগুলো বাড়তে থাকে। নিজ দলের মধ্যেও এই বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে এবং অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।‘


