নানা অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে আ.লীগ

নানা অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে আ.লীগ
নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলার আবেদন করা হয়েছে।

লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের আইনজীবী স্টিভেন পাওলস কেসি আওয়ামী লীগের পক্ষে আইসিসিতে এই অভিযোগ দাখিল করেছেন। ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের ওয়েবসাইটেই এ আবেদনের বিষয়টি শুক্রবার প্রকাশ পায়।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে তখন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার। এমনকি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধও ঘোষণা করা হয়েছে।

আবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সময় শেখ হাসিনার সাবেক সরকারের সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং অন্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রতিহিংসামূলক সহিংসতার তদন্ত শুরু করতে আইসিসির প্রসিকিউটরকে অনুরোধ করা হয়েছে। এসব অপরাধ আইসিসির এখতিয়ারভুক্ত অপরাধের শামিল।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২০১০ সালের ২৩শে মার্চ আইসিসির রোম সংবিধি অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। ওই বছরের ১ জুন থেকে এই সংবিধি বাংলাদেশের জন্যও কার্যকর হয়।

আইসিসিতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, উল্লেখিত হত্যা, কারাবন্দীকরণ এবং নিপীড়ন মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল, যার জন্য প্রসিকিউটরের তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন। এই অপরাধগুলো বাংলাদেশে সঠিকভাবে তদন্ত বা বিচার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আইসিসিতে বিচার না হলে এসব অপরাধের দায়মুক্তি ঘটবে।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে আবেদনে বলা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেককে গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এসব ঘটনার প্রমাণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন ভিডিও।

আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর ২৫ জন আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে মারা গেছেন। যাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃতদেহে নির্যাতিনের সুস্পষ্ট চিহ্ন মিলেছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

সেখানে বলা হয়েছে, রাজনীতিক, বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক, অভিনেতা ও সংগীতশিল্পীরাও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।

আইসিসিতে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ’ মোকাবিলার ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে ‘ডেভিল হান্ট’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। যার মাধ্যমে মাত্র ১২ দিনে অন্তত ১৮ হাজার মানুষকে গেপ্তার করা হয়।

এমনকি এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার একটি দায়মুক্তি আদেশ জারি করে। যেখানে বলা হয়, ‘ছাত্র ও নাগরিকরা, যারা এই অভ্যুত্থানকে সফল করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তাদের ২০২৪ সালের ১৫ই জুলাই থেকে ৮ই আগস্টের মধ্যেকার কর্মকাণ্ডের জন্য বিচার, গ্রেপ্তার বা হয়রানির সম্মুখীন হতে হবে না।’

এই দায়মুক্তিকে হামলাকারীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় প্রচ্ছন্ন সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, যেহেতু বাংলাদেশে তদন্ত ও বিচারের কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই ন্যায়বিচারের সেরা সুযোগ হলো আইসিসির প্রসিকিউটরের তদন্ত শুরু করা।

আবেদনটিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পালাবদলের পরিস্থিতিতে প্রতিহিংসামূলক অপরাধ তীব্র উদ্বেগের বিষয়। এই ধরনের অপরাধগুলো সরাসরি আইসিসির এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে এগুলোর দমন জরুরি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad