পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
রোববার খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় কাফির বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মো. মামুনকেও আসামি করা হয়েছে।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই সকালে নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুন মাটি কাটার ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। তারা জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচলের রাস্তা তৈরির চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষকদের সঙ্গে দুব্যবহার, ধাক্কাধাক্কি এবং খুনজখমের হুমকি দেওয়া হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমির মাটি কেটে ট্রলিতে করে নিয়ে যান এবং ছোট ছোট কঙ্কর পাথর ফেলে রাস্তা তৈরি করেন। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘বিদ্যালয়টির মালিকানায় ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এতদিন ধরে তা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে থানায় যাই। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিলে আমি ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ‘এই জমির ওয়ারিশগণ দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে আমি বায়না সূত্রে জমি খরিদ করেছি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর রাস্তা নির্মাণ করি। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার সামনাসামনি দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।’
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি রুজু করেছেন এবং কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলামকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।


