নরসিংদীর রায়পুরায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল কান্দাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কান্দাপাড়া এলাকার জজ মিয়ার ছেলে দিপু (১৮) ও রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব হাসান রুবেল (২০)।
মামলার অভিযোগ, পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ১৬ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর সঙ্গে রিয়াম (১৭) নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে কয়েকজন তাদের আটকে মারধর করে।
একপর্যায়ে রিয়াম পালিয়ে গেলে কিশোরীকে জোরপূর্বক চরমরজাল দক্ষিণ কান্দাপাড়া এলাকার একটি নির্জন পতিত জমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আসামি দিপু ও রাকিব হাসান রুবেল তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে আরও দুই অভিযুক্ত ঘটনাস্থলে এলে প্রথম দুজন পালিয়ে যায়।
এ সময় অভিযুক্তরা ওই ছাত্রীর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
ধর্ষণের পর রাত প্রায় ২টার দিকে ভুক্তভোগী ছাত্রী বাড়ি ফিরে তার মাকে বিস্তারিত জানায়। এ ঘটনার পরদিন রোববার রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে প্রেমিক রিয়ামসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে রায়পুরা থানায় ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন।
সোমবার রায়পুরা থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) টি এম ফরিদুল আলম জানান, সোমবার সকালে মামলার দুই আসামি দিপু ও রাকিব হাসান রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


