চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সরকারের নির্ধারিত সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা গেছে।
এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে মোট রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।
শুধু মার্চ মাসের হিসাবেই ঘাটতির চিত্র আরও স্পষ্ট। ২০২৬ সালের মার্চে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার ৫০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তবে সাময়িক হিসাবে আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। ফলে এক মাসেই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৫২৮ কোটির বেশি।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনটি প্রধান রাজস্ব খাতেই উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক খাতে মার্চ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১৯৬ কোটি ১ লাখ টাকা, বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যেখানে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট রাজস্ব আহরণে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, তবুও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এনবিআরের জন্য।
বিশেষ করে আমদানি পর্যায়ে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৭ দশমিক ২১ শতাংশে নেমে যাওয়ায় সামগ্রিক রাজস্ব ঘাটতি আরও বেড়েছে।


