আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাসমূহকে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।
ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ, নৌপুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যোগ করেন তিনি।
নৌদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১৬ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দিনে-রাতে বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙ্গি নৌকার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দিনের বেলায় স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ১৭ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ থাকবে, যাতে যাত্রী পরিবহন নির্বিঘ্ন থাকে।
মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, অনুমোদিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লঞ্চের ছাদে যাত্রী ওঠানো যাবে না। বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সকল নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নৌযানের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে এবং সিরিয়াল ভঙ্গ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হবে।
১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম চারজন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে ঘাটভিত্তিক ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং টিম সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করবে।
দুর্ঘটনা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখা হবে। গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে ভাসমান নৌ-ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে। চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় ঘূর্ণাবর্ত এলাকা চিহ্নিতকরণসহ নৌরুটে নাব্য চ্যানেল যথাযথভাবে মার্কিং নিশ্চিত করা হবে, যোগ করেন তিনি।
নদীবন্দর ও টার্মিনালসমূহে পানীয় জল, স্যানিটেশন, মোবাইল চার্জিং, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারসহ নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সদরঘাটসহ সকল নদীবন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর এলাকায় গার্মেন্টস ও নিটওয়্যার খাতের শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে একযোগে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সৃষ্টি না হয়। লঞ্চ ও ফেরিঘাট থেকে দেশের অভ্যন্তরে যাত্রী পরিবহন সহজ করতে বিআরটিসির পর্যাপ্ত ফিডার বাস সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র হটলাইন ১৬১১৩ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া নৌপরিবহন সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি-সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।


