আদালতের নথি জালিয়াতি করার অভিযোগে ঢাকার দেউলিয়া আদালতের সেরেস্তাদার মো. খাদেমুল বাশারকে (৫৩) চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম এহসানুল হক।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি মো. খাদেমুল বাশার বিচারকের নাম-পদবী ব্যবহার করে সই জাল করে ভুয়া আদেশনামা, জাল রিলিজ আদেশ ও জাল জামিননামা তৈরি করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আসামিদের জামিনে মুক্ত করায়।
পরে এই অভিযোগে ঢাকার সূত্রাপুর থানায় জাল-জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পরে আসামি মো. খাদেমুল বাশারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকালে আসামিকে সূত্রাপুর থানার জনসন রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধের কথা স্বীকারও করে নেন এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আলামতও জব্দ করা হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানার পক্ষের আইনজীবী আখতার আলী শেখ নতুন ওকালতনামাসহ একটি দরখাস্ত দাখিল করে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী ঐ মামলার অর্থদণ্ডের ৩৫ শতাংশ যা ৩৫ লক্ষ টাকা চালানযোগে জমা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবীর বক্তব্য শুনে ওই টাকা জমা দিয়ে চালানের কপি দাখিল করার নির্দেশ দেন বিচারক।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পরও সাজাপ্রাপ্ত আসামির আইনজীবী ওই অর্থ জমা দিয়ে চালানের কপি আদালতে দাখিল করেননি। ফলে ওই আবেদন শুনানির জন্য নথিভুক্ত রাখা হয়। আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিনের আবেদন দাখিল করা হয়নি এবং আসামি মো. সোহেল রহমানকে জামিনও দেওয়া হয়নি।
তবে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ মার্চ এই আদালতের ৪৬ নম্বর আদেশের কপিতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রহমান একটি দরখাস্ত দাখিল করে অর্থদণ্ডের ৫০ শতাংশ টাকা জমা দেওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখায় টাকা জমা দেওয়ায় আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কিন্তু পরে জানা যায়, ওই আদেশটি জাল ছিল।
জামিননামা ও আদেশর নিচে বিচারকের সইয়ের স্থানে জাল সই করা হয়। জাল মুক্তির আদেশ, জাল জামিননামায় আইনজীবী মো. মিজানুর রহমানের নাম জিম্মাদার হিসেবে লেখা হয়েছে। সেখানে জামিন সঠিক আছে জানিয়ে সই করেছেন বেঞ্চ সহকারী তানজিল হোসেন।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত আসামী সোহেল রহমান হাজতে থাকাবস্থায় সেখান থেকে তার পরামর্শ ও নির্দেশে তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের সিল ও সই জাল করে ওই আদেশের কপি তৈরি করেন।


