দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) কাছে আজকের মধ্যেই চাহিদা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি ইত্যাদি সংক্রান্ত বিধির অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সকালে এ রায় দেয়। এর ফলে প্রাথমিকের শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে পারবে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও কলেজেও শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল ফোনে আদালতের রায় জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন।
‘পিএসসি চেয়ারম্যান দ্রুত চাহিদা দিতে বলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকালের মধ্যেই পিএসসিতে চাহিদা পাঠানো হবে, যাতে পিএসসি বিশেষভাবে এই নিয়োগ দিতে পারে’, যোগ করেন এহছানুল হক মিলন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেডের। এ জন্য এ পদে পদোন্নতির ফাইল পিএসসিতে পাঠাতে হয় বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।
বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। আর সরাসরি নিয়োগ হয় ২০ শতাংশ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের রায়ের পর শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার পর সহকারী শিক্ষকের এই পদগুলোও শূন্য হবে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে দুই হাজার ২০০ এর বেশি। অর্থাৎ প্রধানশিক্ষক পদে পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষকের ৩৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়োগের পর অবিলম্বে ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া যাবে। এটি একটি সুখবর।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস।


