জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে হলে জামায়াতের জোট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, জামায়াত ও এনসিপির আদর্শ তেল ও জলের মতো। দুটি কখনো একসঙ্গে মেশে না। আদর্শগতভাবে দল দুটির একসঙ্গে রাজনীতি করাও সম্ভব নয়।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন রাশেদ। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি ও জামায়াতের সম্পর্ক টিকবে না দাবি করে রাশেদ বলেন, নির্বাচনের আগে নতুন দল হিসেবে সংসদীয় রাজনীতি করার জন্য জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়েছিল এনসিপি। সে সময় তাসনিম জারার মতো তরুণ নেতারা দলটি ছেড়ে বেরিয়ে যান। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট তরুণ নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, এখন সামান্তা শারমিনও এনসিপি ছেড়ে বের হয়ে গেছেন। এনসিপি যদি জামায়াতের জোট থেকে বেরিয়ে না আসে, তাহলে সামান্তা শারমিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতারা ধীরে ধীরে দল ছাড়বেন। নাহিদ ইসলামকে জামায়াত ছেড়ে রাজনীতি করার পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে রাশেদ বলেন, জামায়াত মুখে ইসলামের কথা বললেও দলটির নেতারা একের পর এক নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছেন। সাতক্ষীরার গাজী নজরুলের ঘটনা এখনো আলোচিত। এর মধ্যে গতকাল থেকে কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা আমির হামজার একটি অডিও রেকর্ড তার কাছে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। সেটির ফ্যাক্টচেক করে সত্যতাও পেয়েছেন বলে জানান রাশেদ।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের হাতে দেশের নারীরা নিরাপদ নন। এসব ঘটনা বারবার সামনে এলেও দলটি অভিযুক্ত সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এভাবে আদর্শের বাইরে চলতে থাকলে জামায়াত ধ্বংস হয়ে যাবে।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে ঝিনাইদহে পৌঁছান রাশেদ। পরে শহরের পাগলাকানাই মোড়ে সায়াদাতিয়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজ শেষে স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সহসভাপতি কে এম ওয়াজেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাহিদ জোয়ার্দ্দার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


