নতুনভাবে ও ভিন্ন কৌশলে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, আর যেন কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে। নতুনভাবে, নতুন কায়দায় বা নতুন অবয়বে কেউ যেন স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
বুধবার রাজধানী ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১৬–১৭ বছরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি অভিযোগ করে রিজভী জানান, ভোটের দিনে যে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা, তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন মানেই জনগণের অধিকার প্রয়োগের উৎসব—কিন্তু ভোটকেন্দ্র দখল ও ভয়ভীতির মাধ্যমে সেই পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে অসভ্য ও উগ্র আচরণ বাড়ছে, যা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। ধর্মকে ব্যবহার করে যদি কোনো শক্তি স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চায়, তবে তা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক নিপীড়নের সময়ে সাংবাদিকরা সাহসিকতার সঙ্গে নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন। এতে বহু নেতাকর্মীর জীবন রক্ষা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় গভীর রাতে নেতাকর্মীদের তুলে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ অস্বীকার করলেও সাংবাদিকরা তা প্রকাশ করেছেন, ফলে অনেকেই রক্ষা পেয়েছেন।
বিএনপির এই নেতা জানান, ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং গণতন্ত্রকামী শক্তির প্রতিফলন ঘটবে। এ সময় আগামী নির্বাচন অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসলাম জবিউল্লাহ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিনসহ অন্যান্য নেতারা।


