প্রতিবাদ, সাম্য ও মুক্তির যে চেতনা কাজী নজরুল ইসলাম ধারণ করেছিলেন, তা প্রতিটি প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও নজরুলের কবিতা নতুন করে মানুষের কণ্ঠে ফিরে এসেছিল।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জয়ন্তী উপলক্ষে সরকার ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে চবিতে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
কাজী নজরুল ইসলামকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘কেউ তাকে প্রেমের কবি বলবেন, কেউ বিরহের, কেউ দ্রোহের, কেউ সাম্যের, আবার কেউ ধর্মীয় সম্প্রীতি কিংবা তারুণ্যের কবি।’
‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর–এই চেতনার মধ্য দিয়ে নজরুল বহু আগে নারী-পুরুষের সমতার কথা উচ্চারণ করেছিলেন, যা আজকের পৃথিবীতে ন্যায়ভিত্তিক সমতার (ইকুইটি) ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
শিক্ষায় মনোযোগ ও পরিবেশ উন্নয়নের আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘চলুন, সবাই আবার ক্লাসে ও গবেষণায় ফিরে আসি। শিক্ষকদের গবেষণায় আরও সক্রিয় হতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো আমাদের ক্যাম্পাসেও নজরুল ক্লাব, রবীন্দ্র ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে চবির অবস্থান সুদৃঢ় করতে ‘র্যাঙ্কিং অ্যান্ড আইপি সেল’ গঠনের কথা উল্লেখের পাশাপাশি শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদের গবেষণা অনুদান এবং এমফিল, পিএইচডি ও স্নাতকোত্তর থিসিস শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভাতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমীন।
উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরাধীনতার যুগে যখন এই উপমহাদেশের মানুষ আশা হারিয়ে ফেলেছিল, তখন নজরুল তার গান ও কবিতার মাধ্যমে জনগণের মনে দেশপ্রেম ও মুক্তির জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন।’
উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে কবির নাম বারবার উচ্চারিত হয়েছিল, তিনি কাজী নজরুল ইসলাম। সমাজে অন্যায়, বৈষম্য বা অসন্তোষের সময়ে নজরুলের সাহিত্য আমাদের তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে উজ্জীবিত করে।’
সেমিনারে ‘দেশপ্রেম, মানবতা ও গণজাগরণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ নূরুল আমিন। আলোচনায় অংশ নেন চবি বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ ও অধ্যাপক তাসলিমা বেগম।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যলেখ্য পরিবেশিত হয়।


