নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরকারি লিজের জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বদলগাছী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে বালুভরা ইউনিয়নের পিতাম্বরপুর গ্রামের প্রায় ৫ একর ৭ শতাংশ ফসলি জমি দখলের উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ হোসেন, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আজাদুল ইসলাম, ঢেকরা গ্রামের হামিদুল ইসলাম, বারাতৈল গ্রামের আজিজুল ইসলাম ও প্রধানকুন্ডি গ্রামের আজাদ হোসেনসহ একদল লোক একটি ট্রাক্টর নিয়ে জমিতে হালচাষ শুরু করেন। খবর পেয়ে লিজগ্রহীতা জাহাঙ্গীর, রিক্তা বেওয়া, রিপা বেগম ও মেহেদী হাসান রাজা বাধা দিলে সেখানে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ঘটনার সময় হট্টগোল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে অভিযুক্ত নেতারা পালিয়ে যান। এ সময় ভুক্তভোগীরা তাদের ব্যবহৃত ট্রাক্টরটি আটকে রাখেন। জবরদখলকারীরা দলীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বর্তমানে পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, প্রায় ১২ বছর ধরে ভূমি অফিস থেকে লিজ নিয়ে এই জমিগুলো ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন মেহেদী হাসান রাজাসহ অন্যরা।
ভুক্তভোগী বিধবা রিক্তা বেওয়া বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর এই জমিটুকুই আমার একমাত্র সম্বল। এখন যদি জোরপূর্বক এটি দখল হয়ে যায়, তবে আমার জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। আমি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা এই জমি দখলের জন্য একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েছেন। এ ছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নীরব চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বালুভরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ‘যারা এতদিন জমি ভোগদখল করছিলেন, তাদের লিজের মেয়াদ গত বৈশাখ মাসে শেষ হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকেও নতুন লিজের আবেদন করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই তারা জমিতে ধান রোপণ করছিলেন। তাই দলীয় কিছু লোক সেখানে গিয়ে হালচাষ করেছে। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে জানিয়েই করা হয়েছে।’
বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল ইমরান হোসেন বলেন, ‘উভয় পক্ষই লিজের জন্য আবেদন করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করে নতুন লিজ দেবেন। তবে নতুন লিজের আগে উভয় পক্ষের চাষাবাদ বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যেই কয়েকজন সেখানে গিয়েছিল বলে আমি জানি।’
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে কারও জমি দখল করার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যারা চেকের মাধ্যমে নিয়মিত রাজস্ব দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলে রেখে চাষাবাদ করছিলেন, নতুন লিজের ক্ষেত্রে তাঁরাই অগ্রাধিকার পাবেন।’


