মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত তিনটি কালভার্ট এখন স্থানীয়দের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংযোগ সড়কের অভাবে এগুলো এখন স্রেফ ‘কঙ্কাল’ হিসেবে পড়ে আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর কাজ ফেলে উধাও হওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া, জয়মন্টপ ইউনিয়নের বেপারীপাড়া এবং চান্দহর ইউনিয়নের রিফাতপুর চকে কালভার্ট নির্মাণের দায়িত্ব পায় আনিস এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও একটি প্রকল্পের কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়ায় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১১ মিটার দীর্ঘ কালভার্টটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে। নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র বেইজ ঢালাই দিয়েই লাপাত্তা ঠিকাদার। স্থানীয় বাসিন্দা দলিল লেখক আইয়ুব মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এক বছর ধরে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। সামনে বর্ষা এলে এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।
একই চিত্র দেখা গেছে জয়মন্টপ ইউনিয়নের নীলটেক বেপারীপাড়ায়। ২৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালভার্টটির মূল কাঠামো এক বছর আগেই শেষ হয়েছে, কিন্তু দুই পাশে এক কণা মাটিও ফেলা হয়নি। ফলে বিশাল এক গর্তের মাঝে বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে আছে কালভার্টটি, যা মানুষের চলাচলে কোনো কাজেই আসছে না। অন্যদিকে, চান্দহর ইউনিয়নের রিফাতপুর চকের কালভার্টটির মেয়াদ এক বছর আগেই শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার কাজ শেষ করার আগেই কৌশলে প্রায় ২০ লাখ টাকা বিল তুলে নিয়েছেন। কিন্তু সংযোগ সড়কের কাজ এখনো শূন্যের কোঠায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য কলিমুদ্দিন সিকদারের দাবি, ঠিকাদার স্থানীয়দের গুরুত্ব দিচ্ছেন না, যার ফলে চরম কষ্টে আছে সাধারণ মানুষ।
অভিযুক্ত ঠিকাদার আনিসুর রহমান অবশ্য সব দায় এড়িয়ে জনবল সংকটের দোহাই দিয়েছেন। তার দাবি, আগামী সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু হবে এবং জুনের মধ্যে সব শেষ করবেন। তবে সিংগাইর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহাদ হোসেনের কথা ভিন্ন। তিনি জানান, ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দিয়েও কাজ করানো যাচ্ছে না। কাজ শেষ না করে বিল দাবি করা নিয়মবহির্ভূত উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দ্রুত কাজ শুরু না হলে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
বর্ষার আগে দ্রুত এই সংযোগ সড়কগুলো নির্মাণ করা না হলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কেবল বাড়বে না, বরং সরকারের এই বিশাল অর্থব্যয়ও শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসবে না।


