কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বালুঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দুর্বৃত্তদের গুলিতে তার বাম পায়ে আঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের লালনবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম আকাশ হোসেন (৩০)। তিনি সদকী ইউনিয়নের চর আগ্রাকুণ্ডা গ্রামের মৃত ফারুক হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক।
এদিকে, একই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে যদুবয়রা ইউনিয়নের হাঁসদিয়া এলাকায় শ্রমিকদল নেতা মানিয়ার মোল্লার বাড়ির গেটে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি যদুবয়রা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই রাতে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।। তারা হলেন সদকী ইউনিয়নের হিজলাকর এলাকার নিয়ামত আলীর ছেলে (২০), হিরু প্রামাণিকের ছেলে মানিক (২১) এবং খোকসা উপজেলার আজাইল এলাকার মজনুর ছেলে রাকিবুল ইসলাম (২১)। তারা বালু পরিবহন ট্রাকের শ্রমিক। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে এলংগী আচার্য মৌজায় গড়াই নদীর ড্রেজিংকৃত প্রায় ৭০ হাজার ঘনফুট বালু প্রায় ৭০ লাখ টাকায় ইজারা দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। টেন্ডারের মাধ্যমে বালু অপসারণের দায়িত্ব পায় কুষ্টিয়ার সৈকত এন্টারপ্রাইজ। তবে যাতায়াত সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন বালু উত্তোলন কাজ শুরু করা যায়নি।
সম্প্রতি সৈকত এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে যদুবয়রা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মানিয়ার মোল্লা, ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহাবুবুল হাসান রনি, বিএনপি নেতা শামছুল আলম ও রিপন বালু উত্তোলন শুরু করেন। কিন্তু কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।
এরপর গত বৃহস্পতিবার উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সবুজ ও তার সহযোগীরা সৈকত এন্টারপ্রাইজের কাছে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করেন। এ সময় শ্রমিকদল নেতা মানিয়ার মোল্লা ও তার লোকজন বালুর গাড়ি আটকে দিলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা প্রথমে শ্রমিকদল নেতার বাড়ির গেটে গুলি ছোড়ে এবং পরে লালনবাজার এলাকায় আকাশ হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালনবাজার এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদল নেতা মানিয়ার মোল্লার বাড়ির গেটে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। বাড়ির ভেতর থেকে পাঁচটি শর্টগানের গুলির সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার স্ত্রী রেনু খাতুন।
রেনু খাতুন বলেন, ‘বালুঘাটে তাদের শেয়ার রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অন্য একটি পক্ষ বালু উত্তোলন করছে।’ তার অভিযোগ, রাতে পাঁচটি মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা বাড়ির গেটে গুলি চালায়।
আহত আকাশ হোসেনের প্রতিবেশী সুজন আলী ফোনে জানান, রাতে লালনবাজার এলাকায় চা খাওয়ার সময় হঠাৎ একটি বালুর ট্রাকে করে আসা কয়েকজন আকাশকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। তিনি ধারণা করছেন, বালুর গাড়ি আটকে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই হামলা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বালু ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সবুজ বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে টাকা পরিশোধ করেই বালু উত্তোলন শুরু করা হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না।’ তার দাবি, তৃতীয় কোনো পক্ষ পরিস্থিতি অশান্ত করতে এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, আকাশ হোসেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তার হাঁটুর নিচে গুলির ক্ষত রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


