শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাই মূল সম্পদ। তাই এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে হলে তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’ এর ‘টিচার্স অ্যাট দ্য সেন্টার: এজেন্সি, কমপিটেন্সি অ্যান্ড দ্য টিচার-স্টুডেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক প্ল্যানারি সেশনে বক্তৃতা কালে তিনি এ কথা বলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তিনি বলেন, ‘এ দেশের উন্নয়ন করতে হলে জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরিত করার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করে গড়ে তুলছি। পাশাপাশি, শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বৃদ্ধির উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার থেকে বিরত থাকার কোনো সুযোগ নেই। সারা বিশ্বেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এআই এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরাও ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। শ্রেণিকক্ষে এআই এর কার্যকর ব্যবহারের জন্য শিক্ষকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ করতে হবে।
‘এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আমরা ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।’ মন্ত্রী এ সকল কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে ইউনেসকোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তাদেরকে যদি আমরা দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারি তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’
পাশাপাশি, দক্ষ জনশক্তি করে তোলা ও যোগাযোগ দক্ষতার উন্নয়নে আমরা বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছি।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি আমাদেরকে উচ্চশিক্ষায়ও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দেশের উন্নয়ন করতে হলে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায়ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ, ইংরেজি সারা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউনেসকার টিচার ডেভলপমেন্ট সেকশনের প্রধান কার্লোস ভার্গাস।


