বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এ নয়, বরং দেশীয় আদালতেই সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আইসিটি ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এ যাওয়ার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা প্রযোজ্য নয়। কারণ, দেশীয় বিচার ব্যবস্থাই মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে সক্ষম এবং সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।’
রোববার রাজধানীতে আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীত, সংস্কার ও গণভোট বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা বলেন তিনি।
কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট এই কনভেনশনের আয়োজন করেছ জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।
আইসিসিতে যাওয়ার জন্য সাধারণত দুটি শর্ত প্রয়োজন রাষ্ট্রের বিচার করার সক্ষমতা না থাকা অথবা বিচার করার অনিচ্ছা থাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এই দুইটির কোনোটিই প্রযোজ্য নয়, বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও আদালত ব্যবস্থা এসব অপরাধের বিচার করতে সক্ষম।’
তিনি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ‘যেখানে অভ্যন্তরীণ বিচার সম্ভব নয় যেমন ইসরায়েলের মতো পরিস্থিতি সেখানে আইসিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেশীয় আদালতই যথেষ্ট।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে অপতথ্য বা ফেক নিউজের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘একটি সংগঠিত ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা ছাড়া এই অপতথ্য মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এটি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।’
গত ১৭ বছরে মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে মন্তব্য করেন তাজুল ইসলাম। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইন ব্যবহার করে যেভাবে বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। বর্তমানেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। এই নিয়ন্ত্রণমূলক ধারা আর ফিরে আসতে দেওয়া উচিত নয়।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গুম কমিশনের মাধ্যমে উঠে আসা তথ্যগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা জনসমক্ষে আসেনি। নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে তরুণদের তুলে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ গোপন করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। নির্যাতনের ক্ষেত্রে অমানবিক পদ্ধতির ব্যবহার হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, একটি ভয়মুক্ত সমাজ গড়তে হলে গত ১৭ বছরের প্রতিটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘এই সময়কার ঘটনাগুলো নিয়ে চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টারি নির্মাণের মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।’


