প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদকদের নিয়মিত বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা করতে হলে কি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বা নিয়মিত বৈঠক অপরিহার্য? নাকি এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে?’
রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীত, সংস্কার ও গণভোটবিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা বলেন তিনি। এই কনভেনশনের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।
আশরাফ কায়সার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সম্পাদকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক একটি নতুন প্রবণতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে আমি ভীষণ চিন্তিত।’
তিনি বলেন, ‘সম্পাদকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করছেন ভালো কথা। প্রধানমন্ত্রীও সহজলভ্য হচ্ছেন, এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বৈঠকের ট্রান্সপারেন্সি কোথায়? আলোচনার এজেন্ডা কী?’
কায়সার উল্লেখ করেন, সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াব থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই ঘোষণাকে সামনে এনে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা করতে হলে কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত মিটিং করতে হবে? মন্ত্রীদের চিনতে হবে? আমার মনে হয় না।’
তার মতে, এই ধরনের ঘনিষ্ঠতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ‘যে সাংবাদিকতা আমরা চাই, সেখানে ক্ষমতার সঙ্গে দূরত্ব থাকা জরুরি,’ বলেন তিনি।
গণমাধ্যম ও মানবাধিকারের সম্পর্ককে তিনি “দান্দিক” বা দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে আবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। কায়সার বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকলে রাজনৈতিক শক্তিগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায় যা গত পাঁচ দশকে বারবার দেখা গেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর মধ্যেও দলীয় প্রভাব বেড়েছে, ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে নিরপেক্ষ আলোচনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্পোরেট মালিকানার প্রসারকে গণমাধ্যমের গুণগত অবক্ষয়ের একটি বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীন, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়। এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সুশাসনের পূর্বশর্ত। এই জায়গায় পরিবর্তন না এলে অপতথ্যের প্রবাহ আরও বাড়বে এবং মানুষের আস্থা মূলধারার গণমাধ্যম থেকে সরে যাবে।’


