রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ছয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে পাঠানোর ১২ দিন পর ফের এই মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে পল্টন মডেল থানা করা মামলায় চার দফায় ১২ দিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের উপপরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তার পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন। এ সময় আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এই মামলায় রিমান্ড শেষে গত ৫ এপ্রিল কারাগারে পাঠানো হয়।
ওইদিন পল্টন মডেল থানার মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। গত ৮ এপ্রিল এই মামলায় পুনরায় চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। গত ১২ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল চতুর্থ দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
দেলোয়ার হত্যা মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আন্দোলনে অংশ নেয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।


