বিচারকদের বাসস্থান ও যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা দিতে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ এবং রাজশাহীর হত্যাকাণ্ডে দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা-এই দুই দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
দাবি পূরণে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে রোববার থেকে দেশের সব আদালতে বিচারকেরা একযোগে কলমবিরতি পালন করবেন।
শুক্রবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম ও মহাসচিব মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজশাহীর ঘটনায় বিচারকের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবহেলা এবং গ্রেপ্তার আসামিকে আইন বহির্ভূতভাবে গণমাধ্যমে উপস্থাপন-এই দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংগঠনটি জানায়, বিচারকদের কর্মপরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট থেকে দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আদালত ও ট্রাইব্যুনাল চত্বর, এজলাস, বিচারকদের সরকারি বাসভবন ও গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বারবার তুলে ধরা হলেও বাস্তবে উন্নতি হয়নি।
জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, বিচার বিভাগের সদস্যরা রাষ্ট্রের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জেলা পর্যায়ের অনেক বিচারকের সরকারি আবাসন বা পরিবহন সুবিধা নেই। চৌকি আদালতের বিচারকদের ভাড়া বাসায় অরক্ষিতভাবে থাকতে হয় এবং রিকশা বা ভ্যানে চড়েই নয়, কখনো কখনো হেঁটে কর্মস্থলে যেতে হয়।
বিচারকেরা জানিয়েছেন, দাবিদাওয়া বিবেচনায় কোনো সিদ্ধান্ত না হলে রোববার দেশের সব আদালতে তারা কালো ব্যাজ পরবেন এবং একযোগে কলমবিরতি পালন করবেন।
রাজশাহীর ডাবতলা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ছেলে, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওসিফ রহমান (১৭) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। আহত হন তার মা তাসমিন নাহার (৪৪)। হামলাকারী লিমন মিয়া (৩৫) তাদের পরিচিত ব্যক্তি। ধস্তাধস্তির সময় লিমনও আহত হন এবং বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনো এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।


