থাইল্যান্ডে স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই এবার রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি সরকারি কার্যালয়ে গুলির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার ননথাবুরি প্রদেশের একটি স্থানীয় সরকারি কার্যালয়ে গুলি চালিয়ে এক সাবেক আইনপ্রণেতা দুইজনকে আহত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গুলিতে ননথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংস্থার (এনপিএও) প্রেসিডেন্ট থংচাই ইয়েনপ্রাসের্ত এবং তার গাড়িচালক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনের অবস্থাই গুরুতর বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুলিতে আহত থংচাই ইয়েনপ্রাসের্তও একসময় পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন।
ননথাবুরি পুলিশের কমান্ডার মেজর জেনারেল দেজরাপি কংদি জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রাদেশিক ওই কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিতে দুইজন আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত বন্দুকধারী হলেন ননথাবুরির সাবেক এমপি চালং রেওরায়েং। গুলি চালানোর পর তিনি একটি ইউটিউব অনুষ্ঠানে ফোন করে নিজের কর্মকাণ্ডের কথা জানান। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
৭১ বছর বয়সী চালং রেওরায়েং ননথাবুরি থেকে তিন মেয়াদে এমপি ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ফেউ থাই পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্য দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে ভোট দেওয়ায় তিনি ‘কোবরা’ নামে পরিচিতি পান। থাইল্যান্ডে দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে যাওয়া রাজনীতিকদের ক্ষেত্রে এ শব্দ ব্যবহার করা হয়।
সর্বশেষ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ভূমজাইথাই পার্টির হয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।
সোমবারের এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন একই প্রদেশে মাত্র কয়েক দিন আগে একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর প্রথমে নিজের বাড়িতে এবং পরে দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে গুলি চালায়। ওই ঘটনায় হামলাকারীসহ নয়জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন।
২০২২ সালের পর এটিই ছিল থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলা। ঘটনাটির পর দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
স্কুলে হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে। বিভিন্ন স্কুলে বসানো হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর। শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি করেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলার পর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


