জ্বালানি খাতকে বেসরকারিকরণের তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। বুধবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরকারি মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর রাখা ও জ্বালানি খাতকে বেসরকারিকরণের তৎপরতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জিন্নাত আরা, সাংগঠনিক সম্পাদক আরমানুল হক, ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক আল-আমীন রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সজিব হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৃজয় সাহাসহ নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওষুধ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত; ওষুধকে কোনোভাবেই বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর সরকারি মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
একইভাবে, জ্বালানি খাতকে বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দিলে তা সার্বিকভাবে বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে। বিদ্যুৎ, পরিবহন, কৃষি ও শিল্পসহ সর্বত্র ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে জনগণের জীবনযাত্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে দাবি করেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে সৈকত আরিফ বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে। সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত চিকিৎসা নেই, হাসপাতাল থেকে যে ফ্রি ওষুধ দেওয়া হয় তাও অনেক ক্ষেত্রে মানুষের হাতে পৌঁছায় না। মানুষ যাতে বিকল্প ব্যবস্থায় ওষুধ কিনতে পারে তাই ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।
‘মানুষের আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখেই এই নীতি সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে। জ্বালানি খাতসহ পাটকলগুলোকে আমরা দেখছি সরকার বেসরকারি খাতে তুলে দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা জ্বালানি খাতকেই যখন সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, তখন বেসরকারি খাতে তুলে দিলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ,’ যোগ করেন তিনি।
যার শিকার হবে সাধারণ মানুষ আর তার প্রতিক্রিয়া সহ্য করতে হবে সরকারকেই। ফলে আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করতে চাই, ভুল পথে হাঁটবেন না। ভুল পথে হাঁটলে, জনগণ তার মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে, যোগ করেন তিনি।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক নাসিম খান, ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক তুহিন ফরাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকিবুর রনিসহ নেতৃবৃন্দ।


