ব্যাংককের আলপাইন ট্রেনিং ক্যাম্পের দুই নম্বর পিচে তখন তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরম। কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজ শুক্রবার সকালে ঘাম ঝরিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। লক্ষ্য একটাই, শনিবার রাজামাঙ্গালা স্টেডিয়ামে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল উপহার দেওয়া। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এই ৯০ মিনিটের নিবিড় অনুশীলনে কোচ পিটার বাটলারের মূল মনোযোগ ছিল থাইল্যান্ড ম্যাচে করা ভুলগুলো ঠিক করা। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে শনিবার বিকেলে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হারলেও প্রথমার্ধের দাপুটে ফুটবল আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে বাংলাদেশকে। তবে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও রক্ষণের পতন আর পেনাল্টি উপহার দেওয়ার যে সিলি মিস্টেক বা সামান্য ভুলগুলো ছিল, আজ সেগুলোকে কাটাছেঁড়া করেছেন বাটলার। সেশনের বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল ডিফেন্ডিং শেপ এবং পজিশনিং নিয়ে বিশেষ ড্রিল। বিশেষ করে সেট-পিস থেকে গোল হজম করা ঠেকাতে রক্ষণভাগে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কোচ। দলের সবাই বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং চীনের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির ২৩ জনের স্কোয়াডই নির্বাচনে পাচ্ছেন কোচ।
চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাসের কণ্ঠে ঝরল দৃঢ় প্রত্যয়। অনুশীলনের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে একটি ম্যাচ খেলেছি এবং সেখানে আমাদের যে ভুলগুলো ছিল, আজ কোচ আমাদের নিয়ে সেগুলো শুধরানোর কাজ করেছেন। বিশেষ করে পজিশন এবং শেপে আমাদের কিছু সমস্যা ছিল, পাশাপাশি ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা নিয়েও আমরা কাজ করেছি।’ চীনের শক্তি সম্পর্কে সচেতন অর্পিতা আরও যোগ করেন, ‘চীন শক্তিশালী দল, তবে আমরা তাদের সাথে ফাইট করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদও মনে করেন, আবহাওয়া এখন আর কোনো অজুহাত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা বেশ কিছুদিন ধরে থাইল্যান্ডে আছি, মেয়েরা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়েছে। গত ম্যাচে টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল যে সমস্যাগুলো ছিল, কোচ আজ সেগুলো নিয়ে কাজ করেছেন যেন ভুলের পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়। চীন বিশ্ব ফুটবলে অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে, তাই আমরা ডিফেন্ডিং শেপ এবং সেট-পিসে বেশি জোর দিচ্ছি যাতে সহজ কোনো ভুল করে গোল হজম না করি।’
প্রতিপক্ষ চীন নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এই ম্যাচে নামছে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে চীনের জেং লু’র জোড়া গোল এবং জেং ইউজিয়ার দুর্দান্ত ফিনিশিং বাংলাদেশের রক্ষণের জন্য বড় সতর্কবার্তা। তবে বাংলাদেশ যদি এই ম্যাচ থেকে কোনোভাবে পয়েন্ট ছিনিয়ে আনতে পারে, তবে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সমীকরণে টিকে থাকবে তারা। সব মিলিয়ে রাজামাঙ্গালার রণাঙ্গনে এক লড়াকু ম্যাচের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে লাল-সবুজের ফুটবলাররা।


