ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সরকারি ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শুক্রবার রাতে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা গেজেটটি প্রকাশ করা হয়। এতে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
গেজেটে জানানো হয়, নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদীয় ১ থেকে ৩০০ নম্বর আসন পর্যন্ত ক্রমানুসারে নবনির্বাচিত সদস্যদের তালিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে ভোট না হওয়া শেরপুর-৩ আসন এবং ভোট শেষ হলেও আইনি জটিলতায় স্থগিত থাকা দুটি আসনের তথ্য ফাঁকা রাখা হয়েছে।

গেজেট প্রকাশের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এখন সময়ের অপেক্ষা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আগামী সোমবার শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
আইন অনুযায়ী স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলায় কারাগারে আছেন। ফলে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সংবিধানে বলা হয়েছে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার যদি শপথ পাঠ না করান, অসমর্থ হন বা অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তিন দিন পর চতুর্থ দিন থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমদ ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়ানোর কথা। তবে এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।’
এর আগে, ৫ ফেব্রুয়ারি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে ‘রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি’ শপথ পড়াতে পারেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিল দুই হাজার ২৯ জন; যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন। এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ
এদিকে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ফলাফলের গেজেটও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
একই দিনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাবিত বিষয়ে জনগণের সম্মতি আছে কি না—এ প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
গণভোটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে চার কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে দুই কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি।
একই সঙ্গে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা সাত কোটি দুই লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬। বাতিল ভোট ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।


