নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা শঙ্কায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
মাসুদ জানান, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিরাপত্তাশঙ্কায় ভুগছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবার থেকেও নির্বাচন না করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’
মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি। তিনি মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। নির্বাচন না করলেও সমাজকর্মী হিসেবে আজীবন মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
নিজেকে একজন রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘সবার আগে পরিবার এবং নিরাপত্তা। তাই পরিবার থেকে বিদায় নিয়েই রাজনীতিতে এসেছি। সেখানে তাদের কোনো বাধা ছিল না। সাম্প্রতিক ঘটনা ও পরিবেশ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত ব্যথিত ও ভীত। এর বাইরে আরও কিছু নিরাপত্তা ইস্যু আছে, সেটা আমি বিশদভাবে বলতে চাই না। পরিবেশটাই নেগেটিভ। তাই দলের নয়, নিজের সিদ্ধান্তেই নির্বাচন থেকে সরে গেলাম।’
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘উনি আমাকে সম্মান দিয়েছিলেন, এটা আমি ধরে রাখতে পারলাম না। আশা করছি, দল বিষয়টি বিবেচনা করবে।’
শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ের শহর–বন্দর নিয়ে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনটি গঠিত। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলা পড়েছে। গত ৩ নভেম্বর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে মাসুদুজ্জামান মাসুদকে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি।
মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান মাসুদ নব্বইয়ের দশকে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হলেও রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। যোগ দেওয়ার এক মাসের মাথায় দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নও পান।
আলোচিত নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে অতীতে শামীম ওসমান পরিবারের আধিপত্য দেখা যায়। শামীম ওসমানের বড় ভাই নাসিম ওসমান একাধিকবার নারায়ণঞ্জ–৫ আসনের এমপি ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আড়ালে চলে যায় ওসমান পরিবারের সদস্যরা।


