বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল যেখানেই পা দিচ্ছে সেখানেই শিরোপার দেখা পাচ্ছে। প্রথমে সিনিয়র দল এশিয়ান কাপ নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করে এরপরে অনূর্ধ্ব-২০ দল সাফ জয় করে ও সবশেষে অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও এশিয়ান কাপ নিশ্চয়তা। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশীপ খেলতে শুক্রবার সকালে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ নারী দল। বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে গণমাধ্যমের সামনে দল ঘোষণা, টুর্নামেন্ট নিয়ে পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বাফুফে নারী শাখার প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ, হেডকোচ মাহবুবুর রহমান লিটু, সহকারী কোচ আবুল হসেন ও অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস অর্পিতা।
একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ নারী দল যেকোন টুর্নামেন্টে অংশ নিলে দুর্বল প্রতিপক্ষ ছাড়া জয়ের মুখ দেখত না। সেই অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশ নারী দল এখন এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছে। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে ভাল করলেও অনূর্ধ্ব-১৭ দলে বলার মত তেমন কোন সাফল্য নেই। এই প্রসঙ্গে কোচ মাহবুবুর রহমান লিটু বলেন ‘দিনে দিনে আমাদের নারী ফুটবলে অনেক উন্নতি হচ্ছে এবং আমরা সব জায়গাতেই ভাল করছি, আমি আপনাদের আহ্বান করব যেন আপনারা আমাদের দলটাকে পজেটিভভাবে নিবেন এবং আশা করি মেয়েরা আপনাদের হতাশ করবে না।‘
পিটার বাটলারকে আমরা প্রচণ্ড আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলাতে দেখি সবসময় তবে যেহেতু এবার পিটার নেই এই তবে পরিকল্পনা কি ভিন্ন হবার একটা প্রশ্ন ফুটবল পারায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল এবং সে বিষয়ে কোচ মাহবুবুর রহমান লিটু তবে এখানে পুরো প্রশিক্ষণ ও খেলার ধরণ চলছে পিটার বাটলারের নীলনকশায়। এ বিষয়ে কিরণ বলেন ‘মাঠে আপনারা যে খেলাই দেখবেন না কেন সেটার মূল পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বাটলারের ডিজাইনেই হয়েছে। বাটলার আগেই বলেছিল সে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সাথে থাকছে না তবে তার পরিকল্পনাতেই দল প্রশিক্ষণ নিয়েছে।’ তাই ধারনা করাই যায় যে অনুর্ধ্ব-১৭ নারী ফূটবল দলকে আমরা বেশ আক্রমনাত্মক ফুটবলই খেলতে দেখব।
টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি আর প্রত্যাশা নিয়ে কথা হলেও আলোচনায় উঠে আসে পুরনো এক প্রশ্ন, বাফুফে কেন তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করে না?
নারী ফুটবলের দুর্দিনে পাশে ছিল ঢাকা ব্যাংক। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া স্পন্সরশিপ চুক্তি ক্রমান্বয়ে বড় হয়েছে, কিন্তু সাত বছরের এই পথচলায় কখনো প্রকাশ করা হয়নি চুক্তির অর্থের পরিমাণ। ঢাকা ব্যাংকও বলেনি, বাফুফেও নয়। অথচ জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিশ্বের অনেক ফেডারেশনই নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব জানায়। দেশে অন্য কয়েকটি ফেডারেশনও প্রকাশ করে থাকে। প্রশ্নটা মাহফুজা কিরণের দিকেই গিয়েছিল। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের অডিট রিপোর্টে সব কিছু থাকে। আমরা আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছ। প্রতি ফেডারেশনের আলাদা নীতি রয়েছে, আপনারা দুটি ভিন্ন ফেডারেশনের মাঝে তুলনা করতে পারেন না।’
তবে সমালোচকদের মতে, শুধু অডিট রিপোর্টের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকলে সাধারণ মানুষ বা সমর্থকদের পক্ষে জানা সম্ভব নয় আসলে কত টাকা আসছে আর কোথায় যাচ্ছে। তাদের যুক্তি, জাতীয় দলের সাফল্য যদি সবার গর্ব হয়, তবে এর অর্থনৈতিক দিকও সবার জানার অধিকার আছে।


