বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার এবং জাতি পুনর্গঠনের নির্বাচন।
শনিবার দুপুরে নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ উত্তরাঞ্চলের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চায়। সে লক্ষ্যেই ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলাকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
নীলফামারীকে কৃষিনির্ভর জেলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলাটিকে একটি কৃষি অঞ্চল হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কৃষির পাশাপাশি কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
জনসভায় তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে নীলফামারী উত্তরা ইপিজেড সম্প্রসারণ, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া এ অঞ্চলে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কিশোরীগঞ্জ উপজেলাকে আঞ্চলিক কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তার অভিযোগ, গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারী শাসন কেবল নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। বিএনপি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চায়।

নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, নারীদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিনা মূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের বোঝা সরকার জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধের উদ্যোগ নেবে।
তিনি আরও বলেন, এলাকা কৃষিনির্ভর হওয়ায় কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। এতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চান বলেও জানান তিনি।
জনসভায় নীলফামারীর চারটি আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেল।
এ সময় বক্তব্য দেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নীলফামারী-৩ আসনের প্রার্থী সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার এবং নীলফামারী-১ আসনে বিএনপি জোটের খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম।
জনসভা শেষে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে দিনাজপুরের জনসভায় অংশ নিতে নীলফামারী ত্যাগ করেন।


