পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের পোলে ওঠে তার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে শাহিন আলম (৩৫) নামে এক লাইনম্যানের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার বিকাল ৫টায় পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি এলাকার জয়নুল হকের ছেলে।
ওই লাইনম্যানের মৃত্যুর জন্য ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। ঘটনার পর থেকে বিক্ষুব্দ জনতা পঞ্চগড় নেসকোর কার্যালয়ের সামনে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে ধাক্কামারা গোলচত্বরসংলগ্ন বিদ্যুতের পোলে ওঠে বিদ্যুতের তার মেরামত করছিলেন লাইনম্যান শাহিন আলম। মেরামত শেষ না হতেই ওই লাইনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হলে মুহূর্তেই বিদ্যুতায়িত হয়ে তারেই ঝুলে ছটফট করতে থাকেন শাহিন। ১৭ মিনিট পর বিদ্যুৎ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস তাকে নামিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। সন্ধ্যায় বিষয়টি সমাধানের জন্য নেসকো পঞ্চগড়ের কার্যালয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধি, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। দীর্ঘ সময় আলোচনার পর বিদ্যুৎ অফিসে নিহত শাহিনের স্ত্রী সাদিয়া আক্তারকে চাকরি দেওয়া, বিদ্যুৎ অফিস থেকে ৪০ হাজার ও উপজেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা অর্থসহায়তা ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে রাত ৮টায় অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।
পঞ্চগড় ইলেক্ট্রিক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিফ আল মেহেদি বলেন, ষড়যন্ত্র করে শাহিনকে মেরে ফেলা হয়েছে। এর দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। এতো বড় ভুল কীভাবে হয়।
নিহতের স্বজন খোকন হাবিব বলেন, ‘আমার বোন জামাইকে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়েছে কাজের জন্য। তিনি খেতে বসেছিলেন, ঠিকভাবে খেতেও পারেননি। কাজে খুব দক্ষ ছিলেন শাহিন। যারা তার সঙ্গে ছিলেন এবং বিদ্যুৎ অফিসের কন্ট্রোল রুমে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তারা কীভাবে লাইন চালু করলেন। আমরা মনে করি পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করছি। সেই সঙ্গে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।’
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এরকম মৃত্যু কারো কাম্য নয়। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া নিহতের পরিবারের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।


