ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনার তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদকে। এদিকে বুধবার রাত ৮টা থেকে চালু হয়েছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা।
এর আগে, সন্ধ্যায় সংঘর্ষের কারণে তৈরি সংকট নিরসনে আলোচনায় বসে হাসপাতালটির পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর, চিকিৎসক ও ডাকসু নেতারা।
এরপর রাত সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতাল পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক এবং ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদকে। এ ছাড়া কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ডিএমপির রমনার বিভাগের ডিসি।’
তিনি আরও বলেন, কমিটিকে আগামী শনিবার প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন আনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, অসুস্থ এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত জেনারেল সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ‘নেলবান’ নামের একটি ইনজেকশনসহ অন্যান্য চিকিৎসা পরামর্শ দেন। ইনজেকশনটি হাসপাতালে না থাকায় বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়। শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা বাইরে গিয়ে ওষুধটি না পেয়ে আবার হাসপাতালে ফিরে এসে এ বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথ ‘কেচি গেট’ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ঘটনার পর একদিকে হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, অন্যদিকে বাইরে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মাঝখানে তালাবদ্ধ থাকে ‘কেচি গেট’।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, প্রেসক্রাইব করা ইনজেকশনটি প্যাসিডিন জাতীয় হওয়ায় ওষুধ বিক্রেতারা তা দিতে অনীহা দেখাতে পারেন। তবে সাধারণত এই ধরনের ইনজেকশন বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণে জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জরুরি বিভাগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


