ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
সোমবার রাতে আহত শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের মা পারভীন আক্তার শাহবাগ থানায় এ অভিযোগপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সোমবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে সেহরি খাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। পথে শাহবাগ থানার অধীন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসসংলগ্ন শহীদ মিনারের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাইফুল্লাহ, হাসিব-আল-ইসলাম, সাঈদ আফ্রিদী, রিয়াদ মাল, সর্দার নাদিম শুভ, মো. সাকিব, ফোরকান উদ্দীন মহি, বায়েজিদ হাসান, হিমেল ও সঞ্জীব হোসেনসহ আরও ১০–১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাভেলের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়, সাইফুল্লাহ লোহার রড দিয়ে পাভেলের মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে হাসিব-আল-ইসলাম পেছন দিক থেকে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তা তার বাম কানে লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পাভেল সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে এসএম হলের সামনে ফেলে আবারও মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে হামলাকারীদের কয়েকজন তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা, মোটরসাইকেলের চাবি ও একটি এটিএম কার্ড নিয়ে যায়।
পরে এক রিকশাচালক আহত অবস্থায় পাভেলকে শাহবাগ থানার সামনে নিয়ে এলে সেখানেও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


