ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে পুরোনো নামফলক মুছে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ক্রেন এনে হলের নামফলক অপসারণের কাজ শুরু হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হলের ভেতরে মূল ভবনে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংক্রান্ত দুটি গ্রাফিতিও রং দিয়ে মুছে ফেলা হয়।
শেখ মুজিবুর রহমান হলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে হলের নামের সঙ্গে ‘জাতির জনক’ শব্দ দুটি যুক্ত করা হয়।
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীরা হলটির নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল করার দাবি তোলেন। সে সময় এ নাম লিখে ব্যানারও টাঙানো হয়।

সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শুক্রবার এই হলটির নাম তার নামে নামকরণের দাবি ওঠে। সেদিন গভীর রাতেই হল সংসদের নেতারা হলের নামফলকের ওপর ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেন।
এরই মধ্যে শনিবার ডাকসু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদি হল এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ফেলানী হল রাখার দাবিতে রোববার উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
তবে সেই কর্মসূচি পালনের আগেই রাত সাড়ে নয়টার দিকে ডাকসুর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইনবে মোহাম্মদ ক্রেন এনে শেখ মুজিবের নাম ও গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেন।
হলের নামফলক ও গ্রাফিতি অপসারণে হল প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছিল কি না এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল সংসদের সহ সভাপতি (ভিপি) মুসলিমুর রহমান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সম্মতিক্রমেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হলের শিক্ষার্থীদের একটি অনলাইন গ্রুপে এ বিষয়ে ভোট নেওয়া হয়। সেখানে ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী নাম পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন।’
নামফলক ও গ্রাফিতি অপসারণে হল প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হল প্রভোস্টকে এ বিষয়ে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। তিনি হয়তো এখনো তা দেখেননি। তবে এ বিষয়ে আমরা আগামীকাল উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করব।’
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হলের নাম পরিবর্তন করতে চাইলে তা সিনেটের মাধ্যমে করতে হয়।


