ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া শিশু-কিশোরদের কানে ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব সর্বমিত্র চাকমা।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এই কার্যনির্বাহী সদস্য জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে যাওয়া একদল কিশোরকে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় গত সোমবার সর্বমিত্র চাকমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ সোমবার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছিলেন, ‘সর্বমিত্র চাকমার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’
ওই নোটিশের জবাব দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সর্বমিত্র বলেন, ‘এখনো জবাব দিইনি। যে প্রশাসন এত দিন এসব বিষয়ে কোনো কারণ দেখেনি, তাদের এখন কারণ দেখিয়ে লাভ আছে বলে আমার মনে হয় না।’
‘এতদিন ধরে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো কি তারা দেখেনি? দেখেও না দেখার ভান করেছে।’
এর আগে নিজের ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেহেতু শোকজ করেছে, তাই আমি লিখিতভাবে জানতে চাইব সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে শিক্ষার্থীদের সাইকেল চুরি, কেন্দ্রীয় মাঠে মোবাইল ও মানিব্যাগ হারানো, দেয়াল সংস্কার না করা এবং শারীরিক শিক্ষা ভবনে মদ্যপ অবস্থায় কর্মচারীদের হাতেনাতে ধরার পরও কেন তাদের বহাল রাখা হয়েছে।’
পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সর্বমিত্র চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পদত্যাগের সিদ্ধান্তে আমি এখনো বহাল আছি। তবে দুই দিন সময় নেব। আজ এক দিন, কাল আরেক দিন।’
এই সময়ের মধ্যে তার অসম্পূর্ণ কাজগুলো প্রো-ভিসি ও ডাকসুর কাছে পাঠাবেন বলেও জানান তিনি।
গত বছর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন সর্বমিত্র চাকমা। এরপর থেকে উচ্ছেদের নামে এক বৃদ্ধকে লাঠি হাতে শাসানো, বিভিন্ন হকারকে মারধর এবং সর্বশেষ শিশু-কিশোরদের প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় তিনি একাধিকবার আলোচনায় আসেন।
সর্বশেষ ঘটনার পর সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে লেখেন, ‘আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারও প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।’
তবে সর্বমিত্রের পদত্যাগের এই ঘোষণার পর ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ টাইমস অব বাংলাদেশ বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে জানানো হবে।
পদত্যাগসংক্রান্ত সর্বমিত্রের ওই পোস্টকে তিনি ‘অভিমানবশত দেওয়া’ উল্লেখ করে বলেন, ‘সে এমন কিছুই করেনি যে তার পদত্যাগ করতে হবে।’


