ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীসহ দেশে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে বাড়তি নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল।
পুলিশ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অন্যান্য ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানো হয়েছে তৎপরতা। গোয়েন্দা তথ্য ধরে চলছে নজরদারি। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে সব থানা ও ডিবির টিম চোখ রাখছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আট বিভাগের ১৪২টি পয়েন্টকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাড়তি নিরাপত্তা পরিকল্পপনা করেছে। প্রতিটি বিভাগের ডিসিদের তদারকিতে এই নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে।
এর মধ্যে রমনায় সর্বোচ্চ ৩৪টি, মিরপুরে ১৪টি, ওয়ারীতে ১৬টি, মতিঝিলে ১৭টি, লালবাগে ১৫টি, উত্তরায় ১৬টি, গুলশানে ১৪টি এবং তেজগাঁওয়ে ১৬টি স্পট উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অরাজকতা ঠেকাতে পুলিশ সবসময় তৎপর। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৩ নভেম্বর লকডাউনের প্রচার চালানো হচ্ছে। ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় ঝটিকা মিছিলসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা চলছে।’
লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লকডাউন ঘিরে বাড়তি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শনিবার বিকালে ৮ বিভাগের ১৪২ স্পটে “অনগার্ড মোবিলাইজেশন ড্রিল” করেছে পুলিশ।’
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ ভবন, বঙ্গভবন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় চলে এই মহড়া।
ডিএমপির একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে কাইকরাইল চার্চ ও সেন্ট যোসেফ স্কুলে ককটেল নিক্ষেপ, ধানমণ্ডির শংকর এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার সকালে ডিএমপির সব জোনের ডিসি এবং থানার ওসিদের নিয়ে সভা করেন পদস্থ কর্মকর্তারা। বেশ কয়েক দফায় হয়েছে এই সভা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে, ঢাকায় প্রবেশ মুখগুলোয় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হবে।
এছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকায় জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দলের মহাসমাবেশ ঘিরে যেন কোনো ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেদিকে পুলিশ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। কর্মসূচি যাতে নির্বিঘ্ন হয় সেজন্য ওইসব দলের নেতাদের সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ রাখছে।


