ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টার একটু বেশি সময়ে দুই গোল হজম করা এবং একজনকে হারিয়ে শুরুতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে কাতার। বিরতির আগে তারা হজম করে আরও এক গোল। ম্যাচের বাকিটা সময় নয়জন নিয়ে খেলা এশিয়ার দলটিকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে কানাডা। জোনাথন ডেভিডের দারুণ হ্যাটট্রিকে নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা জোরাল করে বিশ্বকাপের সহআয়োজকরা।
ভ্যাঙ্কুভারে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ৬-০ গোলে জিতেছে কানাডা। জোনাথান ডেভিডের হ্যাটট্রিকের রাতে কানাডার বিপক্ষে স্রেফ উড়ে গেছে নয়জনের কাতার। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় আদায় করার পথে কাতারকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে বিশ্বকাপের সহস্বাগতিকরা। ম্যাচের শুরু থেকে কাতারের ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে কানাডা। এর মধ্যে দুই অর্ধে কাতারের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় তারা। শেষ দিকে ভঙ্গুর ও নড়বড়ে কাতারকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতেছিল কানাডা, আক্রমণের কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেনি তারা।
এই জয়ে সুইজারল্যান্ডকে টপকে গ্রুপের শীর্ষে উঠল কানাডা। ২ ম্যাচ শেষে দুই দলেরই পয়েন্ট সমান চার হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে রইল কানাডিয়ানরা। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির পর এই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন জোনাথন ডেভিড। কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পথে একাই তিন গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের শুরুতেই কানাডিয়ান স্ট্রাইকার কাইল ল্যারিনের গোলে লিড নেয় স্বাগতিকরা। কানাডা ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিডের জোরালো শট কাতার গোলকিপার মাহমুদ আবুনাদা ঠেকিয়ে দিলেও বল হাতে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে নিখুঁত শটে গোল করেন ল্যারিন।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার প্রথম ম্যাচেও সমতাসূচক গোলটি করেছিলেন এই ল্যারিন। কাতারকে চাপে রেখে ম্যাচের ২৯ মিনিটে দলের হয়ে দারুণ এক শটে নিজের প্রথম ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন জোনাথন ডেভিড।
ম্যাচের আধঘণ্টা পেরোতে বড় ধাক্কা খায় কাতার। কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড তেজন বুকানানকে বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফাউল করেন কাতারের হোমাম আহমেদ। এই ফাউলের কারণে রেফারি প্রথমে পেনাল্টি দিলেও পরে ভিএআর যাচাইয়ের পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বদলে ফ্রি-কিক দেন। তবে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় হোমামকে। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া কাতার পরিণত হয় ১০ জনের দলে। আক্রমণের সেই ঝড় বইয়ে দিয়ে বিরতির আগে (৩-০) গোলের লিড নেয় কানাডা। স্বাগতিকদের হয়ে প্রথমার্ধেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড।
বিরতির পর ম্যাচের ৫৩ মিনিটে দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখে কাতার। কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে মারাত্মক ফাউল করে এই লাল কার্ডটি দেখেন কাতারের আসিম মাদিবো। মাদিবোর সেই ভয়ংকর ফাউলের কারণে পা ভেঙে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোনে। দল নয়জনের হয়ে পড়লে কাতারের রক্ষণভাগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে কাতারের জালে চতুর্থবার বল জড়ায় কানাডা। দুর্দান্ত এই গোলটি করেছেন নাথান সালিবা। গোলের পর সালিবা তার পা ভেঙে মাঠ ছাড়া সতীর্থ ইসমায়েল কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে আবেগঘন এক উদযাপন করেন।
৭৫ মিনিটে কানাডার পক্ষে ম্যাচের ৫ম গোলটি আসে আত্মঘাতী উৎস থেকে। স্বাগতিকদের একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন কাতারের মোহাম্মদ মানাই। ডেভিডের হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি গোল করেন কাইল ল্যারিন ও নাথান সালিবা এবং অন্য গোলটি ছিল আত্মঘাতী। কাতারকে একাই তিন গোল উপহার দিয়ে জোনাথন ডেভিড নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ৬-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।


