সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৬ জনে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৮৩৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮২ হাজার ৬০৬ জন।
এদিন সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাওয়া যায় ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৬৭ জন এবং মারা যান একজন। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটিতে একজন ও রাজশাহী বিভাগে একজন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩২৬ জন মারা গেছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে, ১৫৬ জন। পাশাপাশি এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ৪৪ জন ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫২, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, ঢাকা বিভাগে সাত, খুলনা বিভাগে ১১, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩, রাজশাহী বিভাগে ১৭ ও সিলেট বিভাগে একজন মারা গেছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ৭৬ জনের মৃত্যু হয় সেপ্টেম্বর মাসে। তবে অক্টোবর মাসে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে ৮০ জন হয়। আর নভেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৯ জন।
এ ছাড়া আগস্টে ৩৯, জুলাইয়ে ৪১, জুনে ১৯, মে মাসে তিন, এপ্রিলে সাত, ফেব্রুয়ারিতে তিন ও জানুয়ারিতে ১০ জনের মৃত্যু হয় মশাবাহিত এ রোগটিতে। মার্চ মাসে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪, মার্চে ৩৩৬, এপ্রিলে ৭০১, মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩, জুনে ৫ হাজার ৯৫১, আগস্টে ১০ হাজার ৪৯৬, সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার ৮৬৬ এবং অক্টোবরে ২২ হাজার ৫২০ জন রোগী।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।
২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি।


