দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তি ময়মনসিংহ বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) বাসিন্দা ছিলেন। নতুন আক্রান্ত ১৯৮ জনের মধ্যে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৭৮ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২০ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৪৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ১০৩ জন এবং ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগে ৩৩২ জন রোগী ভর্তি আছেন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪৮ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫ হাজার ৫১৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ হাজার ৬৭ জন। এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ১৩ জন।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট আক্রান্তের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি—প্রায় ৬২ দশমিক ২ শতাংশ (৩ হাজার ৪২৯ জন) এবং নারী আক্রান্তের হার ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ (২ হাজার ৮৫ জন)। অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো ১৩ জনের মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ (৮ জন) পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ (৫ জন) নারী।
মাসভিত্তিক হার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি জুন মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন আটজন।
এর আগে জানুয়ারি মাসে ১ হাজার ৮১ জন আক্রান্ত ও দুজনের মৃত্যু হয়; ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০৯ জন আক্রান্ত ও দুজনের মৃত্যু হয়; মার্চ মাসে ৩৫৩ জন ও এপ্রিল মাসে ৬৪০ জন আক্রান্ত হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং মে মাসে ৭১৪ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি একজনের মৃত্যু হয়।
চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হয়েছেন বরিশাল বিভাগে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪৮৯ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) ৭৭৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬৯৪ জন, খুলনা বিভাগে ৬১১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ৪৬৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৬ জন, সিলেট বিভাগে ৬০ জন এবং রংপুর বিভাগে ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ তিনজন, ময়মনসিংহ বিভাগে তিনজন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী গ্রুপে সর্বোচ্চ ৭৫২ জন, ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী গ্রুপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭০৮ জন এবং ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী গ্রুপে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।


