মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দরজায় বিকট ধাক্কা। দরজা খুলতেই চোখে পড়ে চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। প্রাণের তাগিদে তিনতলার জানালা দিয়ে বেরিয়ে সংকীর্ণ কার্নিসে আশ্রয় নেন দম্পতি। অবশেষে অন্ধকারের মধ্যে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফায়ার সার্ভিসের সাহায্যে উদ্ধার পেলেন তারা।
এই দম্পতিকে উদ্ধারের এমন খবর দিয়েছে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।
পত্রিকাটি জানায়, বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ঘুরতে এসে নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে উঠেছিলেন সুমাইয়া আখতার ও তার স্বামী রেজাউল ইসলাম। মঙ্গলবার গভীর রাতে ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সুমাইয়া জানান, “দরজায় প্রচণ্ড ধাক্কার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। দরজা খুলে দেখি পুরো বারান্দা ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে গেছে। বেরোনোর কোনো পথ ছিল না।” এই পরিস্থিতিতে সোমাইয়ার স্বামী রেজাউল মাথা ঠাণ্ডা রেখে দরজার দিকে না গিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে বেরোনোর সিদ্ধান্ত নেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দু’জনেই জানালা গলে তিনতলার কার্নিশে গিয়ে দাঁড়ান।
তবে বিপদের শেষ এখানেই ছিল না। গভীর রাতে আগুনের ধোঁয়ার কারণে নিচে রাস্তা থেকে কার্নিশে কেউ আটকে আছে কিনা তা বোঝা যাচ্ছিল না। সুমাইয়া ও রেজাউল সাহায্য চেয়ে চিৎকারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে নিচের পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। প্রায় আধ ঘণ্টা ওই অবস্থায় কার্নিশে আটকে থাকার পর, স্থানীয় মানুষ ও ফায়ার সার্ভিসের চোখে পড়ে সেই আলোর সংকেত। এরপর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মই এনে কার্নিশ থেকে তাদেরকে নিচে নামিয়ে আনেন।
উদ্ধার পাওয়ার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না এই দম্পতির। কী করে জানলা দিয়ে বেরোলেন আর কীভাবে অত উঁচুতে দাঁড়িয়েছিলেন, ভাবলেই শিউরে উঠছেন তারা।
উল্লেখ্য, ওই হোটেলে বাংলাদেশ থেকে আসা আরও অনেকেই ছিলেন। তাদের কেউ এসেছিলেন চিকিৎসার কাজে, আবার কেউ ব্যবসার প্রয়োজনে। আগুনে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন নয়জন, তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশের নাগরিক।


