দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ডিসি সারওয়ার আলমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে সরকার দুর্নীতিকে উৎসাহ দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী।
বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় তিনি বলেন, মাজার ও বিভিন্ন খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে চৌকস ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত সারওয়ার আলমকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের বরাদ্দ কমিয়ে সরকার দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে আরও দুর্বল করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, ‘এটি শুধু গরিব মারার বাজেট নয়, গরিবকে হয়রানি করার বাজেট। সরকার একদিকে ঋণনির্ভর বাজেট দিচ্ছে, অন্যদিকে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বরং দুর্নীতির সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি কমাতে হলে শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে সরকার তার উল্টো পথে হাঁটছে। সারওয়ার আলমের মতো একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আইয়ুবী আরও অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং এটি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও সামাজিক কর্মসূচির আড়ালে নানা খাতে দুর্নীতি চলছে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, এ কর্মসূচি থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৭ কোটি টাকা দুর্নীতি করা হচ্ছে। একইভাবে বর্তমান সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের নামে দুর্নীতির নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি হওয়ার পর সারওয়ার আলম ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকার খোয়া যাওয়া পাথর উদ্ধার করে আলোচনায় আসেন। গত সপ্তাহে হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স বসান। আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব দানবাক্স দেখভালেরও দায়িত্ব নেয় জেলা প্রশাসন। তার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের প্রশংসা পেলেও মাজার সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ ভালভাবে নেয়নি। পরে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।


