ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ‘স্পিরিটস অব জুলাই’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি কনসার্টে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কনসার্টে ডাকসুর এক সম্পাদকের দেওয়া স্লোগান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিতর্ক।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘কুয়াশার গান’ শিরোনামে কনসার্টটির আয়োজন করা হয়। কনসার্টটির স্পনসর প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’ সেখানে একটি স্টল স্থাপন করে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করেছে বলে জানা গেছে।
কনসার্টস্থলে সিগারেট বিতরণের বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন, ডাকসুর আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে কীভাবে এ ধরনের কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হলো।
এ বিষয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা। সমালোচনার মুখে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
স্ট্যাটাসে মোসাদ্দিক আলী লেখেন, কনসার্ট আয়োজনে ডাকসুর পক্ষ থেকে মূলত তিনিই যুক্ত ছিলেন। তবে স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, চুক্তি বা শর্ত নির্ধারণের কোনো প্রক্রিয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
তিনি আরও লেখেন, স্পনসর প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’ তাদের পক্ষ থেকে কনসার্ট এলাকায় একটি নির্দিষ্ট ‘স্মোকিং জোন’ করার কথা জানিয়েছিল, যাতে অন্য দর্শকদের অসুবিধা না হয়। বিষয়টি শুনে তিনি ইতিবাচক ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
মোসাদ্দিক জানান, কনসার্ট চলাকালে তিনি অতিথি ও স্টেজ ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত থাকায় মাঠে কী ঘটছিল সে বিষয়ে অবগত ছিলেন না। কনসার্টের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলেও তখন আর হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না।
তিনি দাবি করেন, স্মোকিং জোনের ভেতরে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের বিষয়টি তার জানা ছিল না।
এদিকে, কনসার্টে উপস্থিত হয়ে মোসাদ্দিক আলী গণভোটের পক্ষে স্লোগান দিলে শিক্ষার্থীদের একাংশের পক্ষ থেকে পাল্টা ও ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়।
তিনি ‘কোটা না মেধা’ স্লোগান দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ‘কোটা, কোটা’ স্লোগান ওঠে। ‘গোলামি না সংস্কার’ স্লোগানের বিপরীতে ‘গোলামি, গোলামি’ এবং তার নাম উচ্চারণ করে পাল্টা স্লোগান দেওয়া হয়। একইভাবে ‘আপস না সংগ্রাম’ স্লোগানের জবাবে ‘আপস, আপস’ এবং ‘তুমি কে, আমি কে’ স্লোগানের বিপরীতে ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ স্লোগান দেন কিছু শিক্ষার্থী।
ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


