রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে আপতত: জাতীয় পার্টিকে ডাকছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি দলের আপত্তির কারণেই জাতীয় পার্টি ছাড়াও আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী দলগুলোকে ডাকা হচ্ছে না। এ ছাড়া কয়েকটি দল নির্বাচনী আইন (আরপিও) এবং নির্বাচনী আচরণবিধি পরিবর্তনের দাবি জানালেও তা আমলে নিচ্ছে না ইসি।
অবশ্য অন্যান্য দলের চাপের মুখে জাতীয় পার্টিকে না ডাকার কথা অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে তিনি বলেন, সংলাপে ডাক না পাওয়া দলগুলোকে আর ডাকা হবে না-এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আরও কিছু রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সেগুলো নিষ্পত্তির বিষয়টা কোনো পর্যায়ে যাবে জানি না। সবকিছু মিলে কমিশন পরবর্তীতে বাকি দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবে কি না বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে এরই মধ্যে সংলাপে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি দল আইন আইন (আরপিও) ও আচরণবিধি সংশোধনের প্রস্তাব দিলেও ইসি তাতে সাড়া দিচ্ছে না। ইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজন এখন প্রায় চূড়ান্ত। এরই মধ্যে সংশোধিত আরপিও’র গেজেট হয়ে গেছে। এই আইন অনুসারে নির্বাচনের ম্যানুয়েলও তৈরি হয়ে গেছে। তাই এখন আর আরপিও সংশোধনের সুযোগ নেই। এ ছাড়া আরপিও’র কোনো কোনো ধারা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে। সেগুলো মাথায় রেখেই আরপিও’র সংশোধন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন আবার আরপিও পরিবর্তন করতে গেলে নতুন বিতর্ক তৈরি হবে।
এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার টাইমস’কে বলেন, আরপিও পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে। তিনি জানান, জোটের প্রতীক ইস্যুতে কেউ বিষয়টিকে নজির হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সীমিত হয়েছে। এগুলোর মাপকাঠি নির্ধারণ খুবই কঠিন। অন্যদিকে, পোস্টার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ যুগান্তকারী বলছেন, কেউ বলছেন বাস্তবতার সঙ্গে যায় না। আইন ও আচরণবিধি নিয়ে এমন মতপার্থক্য থাকবেই।
গত ১৩ নভেম্বর থেকে ৪৬টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি। আমন্ত্রণ পেয়েও সংলাপে যায়নি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং তৃণমূল বিএনপি। সংলাপে অংশ নেওয়া বাম দলগুলো জামানতের অর্থ কমানো, জোটের ভোটে ইচ্ছেমতো প্রতীক বরাদ্দ, সকল আসনেই ‘না’ ভোট প্রবর্তন, নির্বাচন কমিশনের খরচে প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন ও যৌথ পরিচিতি সভা করা, সীমিত আকারে মোটরসাইকেল শোডাউনের সুযোগ দেওয়াসহ বেশ কিছু দাবি জানায়।
জাতীয় পার্টির ভাগ্য
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের জন্য এবার নিবন্ধিত ৫৭টি দলের মধ্যে ৫৬টি দলকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেছিল ইসি। বাদ ছিল নিবন্ধন স্থগিত আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত ৪৮টি দলকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়। নিবন্ধিত দল জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) ও তরিকত ফেডারেশনকে সংলাপে ডাকা হয়নি। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মহাজোটের সঙ্গী। অন্য দলগুলো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের অংশীদার ছিল।
ইসি সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণধিকার পরিষদের আপত্তির কারণে এসব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে ইসির পক্ষ থেকে এ কথা স্বীকার করা হয় না। বরং ইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় পার্টি দুই ভাগ হয়ে গেছে। এই দলের নেতৃত্ব নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। দুই পক্ষই নিজেদেরকে আসল জাতীয় পার্টি দাবি করে দলীয় প্রতীক দেওয়ার জন্য ইসিতে চিঠি দিয়েছে। ইসি এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
অন্যদিকে ১৪ দলীয় জোটের শরীক অন্য দলগুলোর কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। এসব দলের অনেক নেতা পালিয়ে আছেন। এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করেই জাতীয় পার্টিসহ এসব দলকে সংলাপে ডাকা হয়নি। আগামীতেও তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানোর সম্ভাবনা কম বলে জানান ইসির কর্মকর্তারা।


