গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা সকালের নাস্তার মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে রোগীদের দেওয়া ডিমের মধ্যে বাচ্চা এবং পচনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
প্রতিদিনের মতো সকালে রোগীদের ডিম, পাউরুটি ও কলা দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, ডিম থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল এবং অনেক ডিম খাওয়ার অযোগ্য ছিল। কয়েকটি ডিমে বাচ্চার অস্তিত্বও দেখা গেছে। একই সঙ্গে পাউরুটিতে ছত্রাকজনিত ময়লা পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
রোগীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। শুধু পুরুষ ওয়ার্ড নয়, নারী ওয়ার্ডেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
রোগী আমির হামজা বলেন, ‘সকালে ডিম, পাউরুটি ও কলা দেওয়া হলেও ডিমে দুর্গন্ধ ও কালো দাগ ছিল। পরে খেতে না পেরে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছি। যারা এসব খাবার দিচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’
আরেক রোগী শিমুল বলেন, ‘শুধু ডিম পঁচা নয়, ডিমের মধ্যে বাচ্চার অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রভাবের কারণে এ ধরনের ঘটনা প্রায় ঘটে। এর জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
তবে ঠিকাদার খন্দকার সাহাদাত বলেন, ‘আড়াইশ ডিমের মধ্যে দুই থেকে চারটি ডিমে সমস্যা হতেই পারে। রোগীদের খাবারের মান নিয়ে স্বজনরা অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টি করছেন। বাজেটের মধ্যেই খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আসিফুজ্জামান আসিফ সরকার বলেন, খাবারের মানে কোনো বড় সমস্যা নেই। তবে কয়েক দিনের ডিম একসঙ্গে কেনার কারণে সামান্য সমস্যা হয়েছিল। বিষয়টি ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে।


