যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা বাতিল করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
স্থানীয় সময় শুক্রবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
দেশটির আদালত জানিয়েছে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য প্রণীত একটি আইনের আওতায় ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা করার মতো আইনি ক্ষমতা তার ছিল না।
সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বলা হয়েছে, ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’(আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট এককভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার রায়ে উল্লেখ করেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কর বা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইন ব্যবহার করে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুল্ক বসানোর কোনো অধিকার প্রেসিডেন্টের নেই।
রায়ের পর ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ক্রিস এডেলসন আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এই রায় থেকে বোঝা যায়, ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং বহু দেশের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে আইন ভঙ্গ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই জরুরি আইনটির অধীনে এমন কোনো ক্ষমতা নেই। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, জরুরি আইন তাকে শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, আসলে কংগ্রেস এমন কিছু বলেনি।’
তবে এই সিদ্ধান্তের পরেও কিছু বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে—যেমন, শুল্কের কারণে যেসব কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা ক্ষতিপূরণ পাবে কি না।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি নোট করেছে এবং এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা চাইছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়টি নোট করেছি এবং এটি সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করছি। এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তারা কী পদক্ষেপ নিতে চায় সে বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়ার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছি।’
উল্লেখ্য, রায়ে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে একমত হন। অন্যদিকে বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ, ক্লারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো ভিন্নমত দেন। কাভানাহ তার ভিন্নমতে বলেন, শুল্ক “নীতিগতভাবে সঠিক কি না তা বিতর্কযোগ্য”, তবে আইনগতভাবে সেগুলো বৈধ ছিল বলে তিনি মনে করেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে এবং সরকারি রাজস্বেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রশাসন বিকল্প আইনি পথ খুঁজে শুল্ক পুনর্বহালের চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদালত আমদানিকারকদের জন্য পূর্বে আদায় করা বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত দেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশ দেয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক এজেন্ডার জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং এটি মার্কিন ইতিহাসে নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।


