ট্রাম্পকে খুশি করতে নাচেন মোদী, এপস্টিনের দাবি প্রত্যাখ্যান ভারতের

ট্রাম্পকে খুশি করতে নাচেন মোদী, এপস্টিনের দাবি প্রত্যাখ্যান ভারতের
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (বামে) এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরায়েল সফরে নেচেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী- এপস্টিন নথির এমন দাবি প্রত্যাখান করেছে ভারত সরকার। শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘২০১৭ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইসরায়েল সফর একটি সম্পূর্ণ সরকারি ও কূটনৈতিক সফর ছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে নরেন্দ্র মোদীর নাম উঠে আসাকে ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ‘একজন দণ্ডিত অপরাধীর রুচিহীন কল্পনা’ বলে উল্লেখ করেন রণধীর জয়সওয়াল।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অপরাধী, যৌন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও অর্থ পাচার ও আত্মসাতে জড়িত জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ। নতুন স্বচ্ছতা আইনের আওতায় প্রকাশিত প্রায় ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠার ওই নথিতে এপস্টিনের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইমেইল আদান-প্রদান উঠে আসে।

এসব ইমেইলের মধ্যে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে পাঠানো একটি ইমেইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের প্রসঙ্গ টানেন এপস্টিন। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ইসরায়েল সফরে গিয়ে ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে সুবিধা নিতে পরামর্শ চেয়েছিলেন। বিনিময়ে তিনি ট্রাম্পকে খুশি করতে নাচ-গানও করেছেন।’

তিনি আরও দাবি করেন, ওই ইসরায়েল সফরের কয়েক সপ্তাহ আগেই মোদী ও ট্রাম্প আরও একবার দেখা করেন।

এই নথি প্রকাশ্যে আসতেই ভারতজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়। তারই জবাব দিতে তড়িঘড়ি করে বিবৃতি দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করে দিল্লি দাবি করে, এপস্টিনের কথিত ইমেইলে থাকা সব মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন

মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, এই ধরনের মন্তব্যের কোনো গুরুত্বই নেই এবং সেগুলোকে ‘চূড়ান্ত অবজ্ঞার সঙ্গে খারিজ করা উচিত।’

পরে এক ভিডিও বার্তায়ও তিনি একই অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘এসব ইমেইলের তথ্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি সূত্রে যাচাই হয়নি।’ তিনি জানান, ভারতের সম্মানহানি হয় এমন কোনো জল্পনা বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

ভারত সরকারের বিবৃতি। ছবি: রণধীর জয়সওয়ালের এক্স পোস্ট

অন্যদিকে এপস্টিন ও তার প্রধান সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত নথিগুলো দীর্ঘ পর্যালোচনার পরই প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে এই বিপুল নথিপত্র প্রকাশের পরও কোন তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনো বিতর্ক চলছে।

মোদী সরকারের স্পষ্ট বক্তব্যের পরও বিরোধী রাজনৈতিক মহল এপস্টিনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য জয়রাম রমেশ সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘মার্কিন সরকারের প্রকাশিত সবশেষ নথিতে প্রধানমন্ত্রীর নাম একাধিকবার এসেছে। সরকারি মুখপাত্রকে এ বিষয়ে তড়িঘড়ি প্রতিক্রিয়া জানাতে হলেও এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তরই অজানা রয়ে গেছে।’

এর আগে, এপস্টিনের নথিতে নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির মা ও ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের নাম উঠে আসে।

এক ইমেইলে দাবি করা হয়, ২০০৯ সালে মীরা নায়ারের ‘অ্যামেলিয়া’ চলচ্চিত্রের ‘সাকসেস পার্টি’ (সফলতার উদযাপন) দেন একটি আন্তর্জাতিক যৌন পাচার চক্রের মূল অভিযুক্ত গিনসেল ম্যাক্সওয়েল।

তিনি ছিলেন জেফ্রি এপস্টিনের ম্যানেজার। ২০২১-এ তিনি ভয়াবহ যৌন অপরাধ ও নারী আপচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল জেলে বন্দি আছেন।

এপস্টিন নথিতে দাবি করা হয়েছে, ওই সাকসেস পার্টিতে মীরা নায়ারও উপস্থিত ছিলেন এবং বিশ্বের সনামধন্য ব্যক্তিত্বরা হাজির হয়েছিলেন। ছিলেন বিল ক্লিন্টন, জেফ বেজোসের মতো ধনকুবেররাও। সেখানে অনৈতিক কার্যকলাপও ঘটে।

জেফ্রি এপস্টিন ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে যৌন অপরাধের ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারেই আত্মহত্যা করে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad