জিয়াউল আহসানের অপরাধ মামলার বিচার দ্রুতগতিতে হচ্ছে-এমন অভিযোগ তুলেছে আসামিপক্ষ। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে এগোনোর অভিযোগ তুলেছে আসামিপক্ষ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহার বুধবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার বিভিন্ন পর্যায়ের শুনানির তারিখগুলো খুব দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। এতদিন বলিনি, এখন অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, এখন তো বলতেই পারি।
মামলাটি ১০৪ জনকে হত্যার ঘটনায় তিনটি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন গত ৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানি করে। সেদিন বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত অভিযোগসংক্রান্ত পেনড্রাইভের জন্য অপেক্ষা করেও তা পাননি বলে জানান নাজনীন নাহার। তিনি বলেন, পরদিন রেজিস্ট্রার অফিস থেকে পেয়েছি।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আসামির সঙ্গে মামলাসংক্রান্ত সাক্ষাতের (প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন) ক্ষেত্রেও কম সময় দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্য আসামিরা তিন দিন সময় পেলেও তাকে সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র এক দিন।
তিনি বলেন, আদালতের অনুমতিক্রমে ৬ জানুয়ারি সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় এবং ৮ জানুয়ারি অব্যাহতির আবেদন দাখিল করা হয়। এর ছয় দিনের মাথায়, ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়। নাজনীন নাহারের মন্তব্য, ‘তার মানে দেখুন, কত তাড়াতাড়ি ডেটগুলো পড়েছে! জাস্টিস হারিড, জাস্টিস বারিড।’
সূত্র মতে, ১৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ২১ ডিসেম্বর প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি এবং ২৩ ডিসেম্বর ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জিয়াউল আহসান ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ওই সময়ে বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়। প্রসিকিউশনের মতে, এসব অপরাধ তার নির্দেশ, অনুমোদন ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয় এবং তার অধীনস্থ সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতেন।


