কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার গহীন পাহাড়ে পাচারের জন্য বন্দী রাখা নারী ও শিশুসহ ৪৪ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল হক শুক্রবার বিকালে এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
সিয়াম-উল হক জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য নারী ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে টেকনাফের বাহারছড়ার পিনিস ভাঙ্গা পাহাড়ি এলাকায় বন্দী করে রাখা হয়েছে বলে খবর পান তারা। পরে বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে কোস্ট গার্ড সদস্যরা পাহাড়ের চূড়ায় পাচারকারীদের গোপন আস্তানা থেকে নারী ও শিশুসহ ৪৪ জনকে উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়া পাঠাতে টেকনাফের গহীন পাহাড়ের গোপন আস্তানায় জিম্মি করে রাখে। পাচারকারীরা তাদের সুবিধাজনক সময়ে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন উপকূল থেকে বোটে করে তাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করছিল। এমনকি পাচারকারীরা তাদের আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করারও চেষ্টা করছিল বলে জানান বন্দীরা।
অভিযানের সময়ে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায় জানিয়ে সিয়াম-উল হক আরও বলেন, ‘ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলছে।’
এর আগে, মঙ্গলবার ওই পাহাড় থেকে রোহিঙ্গাসহ ছয়জনকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ৩ অক্টোবর একই এলাকা থেকে নারী ও শিশুসহ ৩৮ জনকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী। ২ অক্টোবর ২১ জনকে ও ১ অক্টোবর সাত নারী ও এক শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ।
২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়ার গহিন পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচ যুবককে উদ্ধার করা হয়েছিল।
১৮ সেপ্টেম্বর একই পাহাড়ি আস্তানায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে ৬৬ জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে ৪৪ জনই নারী-শিশু। উদ্ধার ৬৬ জনের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা নাগরিক, বাকিরা বাংলাদেশি। ১৪ সেপ্টেম্বর নারী-শিশুসহ ৮৩ জনকে উদ্ধার করে র্যাব ও বিজিবি।


