কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। স্বজনেরা মরদেহ নিতে হাসপাতালে ভিড় করলেও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় সেগুলো এখনো হস্তান্তর করা হচ্ছে না। মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কোন মরদেহ কার, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাকি চারজনের পরিচয়ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘মরদেহগুলো পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
শনিবার সকালে কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটক নিহত ও ছয়জন দগ্ধ হন। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার। দুই বান্ধবীর সঙ্গে রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন তিনি। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল কক্সবাজারে এসে রিসোর্ট ও হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও স্ত্রীর সন্ধান পাননি।

টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুনে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদ এবং ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে রিসোর্টের মালিক নিয়াজ মোর্শেদ ও তানভীর আহমদের অবস্থান এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রিসোর্টের মালিক মো. তানভিরের অবস্থান জানা যায়নি।
জেলা প্রশাসক জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিসোর্টটি অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল এবং তা অপসারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, রিসোর্ট নির্মাণে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সেখানে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থাও ছিল না। সমুদ্রের তীব্র বাতাসে কাঠের স্থাপনাটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।


